ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কেল্লাপোষী মেলা শেষ, কিন্তু প্রশ্ন আরও বড় হয়ে ফিরে এসেছ কুমিল্লায় স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বামী গ্রেফতার বাজিতপুর উপজেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আরপিএমপি’র উদ্যোগে গভীর শ্রদ্ধা ও মোনাজাত ফুলবাড়ীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দেহ ব্যবসার সঙ্গে জরীত ৭জন নারী-পুরুষ আটক প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত সোনাগাজীতে ঈদের আনন্দে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থীর ঘরে পৌঁছালো কোরবানির মাংস ঠাকূরগাঁও জেলার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাঙ্গামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে হত্যা মামলার আসামি সহ গ্রেফতার-৪

রাজবাড়ি-২ আসন নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জে বিএনপি

মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা
রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি:

গতকাল (৩ নভেম্বর) সোমবার বিএনপি ঘোষণা করেছে তাদের চূড়ান্ত প্রার্থীতার তালিকা। ৩০০ আসনের গভীর হিসাব-নিকাশ, যাচাই-বাছাই শেষে দলটি মনোনয়ন দিয়েছে যোগ্য প্রার্থীদের। ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজবাড়ি-১ ও রাজবাড়ি-২ আসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি।

রাজবাড়ি-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। তবে রাজবাড়ি-২ (পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালি) আসনের প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই আসন ঘিরেই এখন দলের ভেতরে শুরু হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ ও আলোচনা।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, এখানে সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন না পেলে দলটি রীতিমতো অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। কারণ, এই আসন থেকেই সাবেক রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা জিল্লুল হাকিম নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে বিএনপিকে জয়ী করতে হলে এমন প্রার্থী দরকার যার রয়েছে জনপ্রিয়তা ও পরিষ্কার ব্যক্তিগত ইমেজ।

এ আসনে আলোচনায় আছেন তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুল হক সাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ হারুন, এবং বারবার কারা নির্যাতিত জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজী রহমান মানিক।

তবে সূত্র বলছে, নাসিরুল হক সাবু বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। বয়স বিবেচনায়ও অনেকেই চান তরুণ ও উদ্যমী নেতা ব্যারিস্টার কাজী রহমান মানিককে মনোনয়ন দিতে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, দলকে প্রতিহিংসা, চাঁদাবাজি ও মারামারি থেকে রক্ষা করতে হলে মানিকের মতো তরুণ, শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের নেতা প্রয়োজন। তা না হলে এলাকায় পুনরায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে।

রাজবাড়ি-২ আসনে বরাবরই বিএনপি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিল। আওয়ামী লীগের আমলে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও শঙ্কা রয়ে গেছে আবারও তারা রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়তে পারেন।

এদিকে, গুঞ্জন রয়েছে এই আসনটি শরিক দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর মহাসচিব মোমিনুল আমিনকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, রাজবাড়ি-২ এ যদি বিএনপি নিজের প্রার্থী না দেয়, তাহলে দলের গ্রহণযোগ্যতা হুমকির মুখে পড়বে। এমনকি দলের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতারা আরও হতাশ হবেন।

মাঠ পর্যায়ের নেতারা জানান বিএনপির শক্ত প্রার্থী না থাকলে ভোটের মাঠে নৈরাজ্য, ভয়ভীতি এমনকি ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

তারা আরও বলেন, রাজবাড়ি-২ আসনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ব্যারিস্টার কাজী রহমান মানিককেই মনোনয়ন দিতে হবে। তাহলেই জনগণ নিরাপদে ভোট দিতে পারবে এবং দলও শক্ত অবস্থানে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রাজবাড়ি-২ আসন নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জে বিএনপি

আপডেট সময় : ০৫:০১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
print news

মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা
রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি:

গতকাল (৩ নভেম্বর) সোমবার বিএনপি ঘোষণা করেছে তাদের চূড়ান্ত প্রার্থীতার তালিকা। ৩০০ আসনের গভীর হিসাব-নিকাশ, যাচাই-বাছাই শেষে দলটি মনোনয়ন দিয়েছে যোগ্য প্রার্থীদের। ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজবাড়ি-১ ও রাজবাড়ি-২ আসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি।

রাজবাড়ি-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। তবে রাজবাড়ি-২ (পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালি) আসনের প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই আসন ঘিরেই এখন দলের ভেতরে শুরু হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ ও আলোচনা।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, এখানে সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন না পেলে দলটি রীতিমতো অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। কারণ, এই আসন থেকেই সাবেক রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা জিল্লুল হাকিম নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে বিএনপিকে জয়ী করতে হলে এমন প্রার্থী দরকার যার রয়েছে জনপ্রিয়তা ও পরিষ্কার ব্যক্তিগত ইমেজ।

এ আসনে আলোচনায় আছেন তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুল হক সাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ হারুন, এবং বারবার কারা নির্যাতিত জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজী রহমান মানিক।

তবে সূত্র বলছে, নাসিরুল হক সাবু বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। বয়স বিবেচনায়ও অনেকেই চান তরুণ ও উদ্যমী নেতা ব্যারিস্টার কাজী রহমান মানিককে মনোনয়ন দিতে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, দলকে প্রতিহিংসা, চাঁদাবাজি ও মারামারি থেকে রক্ষা করতে হলে মানিকের মতো তরুণ, শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের নেতা প্রয়োজন। তা না হলে এলাকায় পুনরায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে।

রাজবাড়ি-২ আসনে বরাবরই বিএনপি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিল। আওয়ামী লীগের আমলে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও শঙ্কা রয়ে গেছে আবারও তারা রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়তে পারেন।

এদিকে, গুঞ্জন রয়েছে এই আসনটি শরিক দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর মহাসচিব মোমিনুল আমিনকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, রাজবাড়ি-২ এ যদি বিএনপি নিজের প্রার্থী না দেয়, তাহলে দলের গ্রহণযোগ্যতা হুমকির মুখে পড়বে। এমনকি দলের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতারা আরও হতাশ হবেন।

মাঠ পর্যায়ের নেতারা জানান বিএনপির শক্ত প্রার্থী না থাকলে ভোটের মাঠে নৈরাজ্য, ভয়ভীতি এমনকি ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

তারা আরও বলেন, রাজবাড়ি-২ আসনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ব্যারিস্টার কাজী রহমান মানিককেই মনোনয়ন দিতে হবে। তাহলেই জনগণ নিরাপদে ভোট দিতে পারবে এবং দলও শক্ত অবস্থানে থাকবে।