ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২ শ্রীনগরে এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে ৩ জনের মৃত্যু পরীমণি ও বুবলীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ভাবনায় চয়নিকা চৌধুরী বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫ ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন: নেতানিয়াহুর ক্ষমতার ভবিষ্যৎ কি ঝুঁকিতে? ভোলাহাটে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগ এলডিসি উত্তরণে রপ্তানি খাতে ৬৩৮ কোটি ডলারের ঝুঁকি দেশের ৬ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ প্রাণহানি, ফরিদপুরে মা-ছেলেসহ ৬ জনের মৃত্যু ব্যালন ডি’অর জয়ের অপেক্ষায় লন্ডনের মাটিতে হ্যারি কেইন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন: নেতানিয়াহুর ক্ষমতার ভবিষ্যৎ কি ঝুঁকিতে?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা, ইরান, হিজবুল্লাহ ও হুতিদের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন। অনেকের মতে, ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের প্রভাব দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পড়তে পারে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোট। নির্বাচনী জনমত জরিপে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সামরিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হওয়ায় আইজেনকোটের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। গত বছরই তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ প্রতিষ্ঠা করেন। গাজা যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে এক সেনাসদস্য হিসেবে তার ছেলের মৃত্যু হয়। নেতানিয়াহুর সরকারের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করলেও সংঘাত পরিচালনা নিয়ে মতবিরোধের জেরে ২০২৪ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা ছিল, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে তিনি নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম ভিত্তি করেছেন।

দেশটিতে বিরোধী শিবিরের অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, অ্যাভিগডর লিবারম্যান ও বামপন্থি নেতা ইয়ার গোলান। বেনেট ও লিবারম্যান ডানপন্থি রাজনীতিক। নিরাপত্তার প্রশ্নে তাদের অবস্থান কঠোর এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বড় অংশে ইসরাইলের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের পক্ষে তারা। অন্যদিকে গোলান পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের পক্ষে। মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও সরকার গঠনের প্রশ্নে এই নেতারা আইজেনকোটের সঙ্গে জোট করতে পারেন।

নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকার ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি সরকার। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাকে সম্ভবত বর্তমান জোটের কয়েকটি কট্টর ডানপন্থি দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। এসব দলের কয়েকজন নেতা পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘অভিবাসনে’ বাধ্য করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নেতানিয়াহুর নিজের দল লিকুদ পার্টির কয়েকজন সদস্যও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়ার পক্ষে কথা বলেছেন।

নির্বাচনে আরব দলগুলোর দুটি জোটও অংশ নিচ্ছে। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব। তাত্ত্বিকভাবে সরকার গঠনে এসব দলের সমর্থন নির্ণায়ক হতে পারে, তবে প্রধান ইহুদি দলগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব দলই আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটকে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থায় সাধারণত একাধিক দলের সমন্বয়ে জোট করতে হয়।

নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণ শেষ হলেও নতুন সরকার গঠনে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কোনো জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের নির্ভরযোগ্য হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরেও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গাজা প্রশ্নে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট উভয়েই ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটাবেন। পশ্চিম তীরের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু বসতি সম্প্রসারণের নীতি অব্যাহত রাখতে চান, যেখানে আইজেনকোট বিতর্কিত ‘ই-১’ বসতি প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার বিরোধী এবং কিছু অননুমোদিত বসতি সরিয়ে দেয়ার পক্ষে কথা বলছেন।

নির্বাচনের দিন স্থানীয় সময় রাত ১০টায় বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করা হবে। পরদিন প্রাথমিক ফলাফল এবং ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য কাউকে দায়িত্ব দেবেন। এই প্রক্রিয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। সরকার গঠনের জটিলতার নজির হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশটিতে পাঁচবার পৃথক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন: নেতানিয়াহুর ক্ষমতার ভবিষ্যৎ কি ঝুঁকিতে?

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা, ইরান, হিজবুল্লাহ ও হুতিদের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন। অনেকের মতে, ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের প্রভাব দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পড়তে পারে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোট। নির্বাচনী জনমত জরিপে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সামরিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হওয়ায় আইজেনকোটের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। গত বছরই তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ প্রতিষ্ঠা করেন। গাজা যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে এক সেনাসদস্য হিসেবে তার ছেলের মৃত্যু হয়। নেতানিয়াহুর সরকারের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করলেও সংঘাত পরিচালনা নিয়ে মতবিরোধের জেরে ২০২৪ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা ছিল, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে তিনি নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম ভিত্তি করেছেন।

দেশটিতে বিরোধী শিবিরের অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, অ্যাভিগডর লিবারম্যান ও বামপন্থি নেতা ইয়ার গোলান। বেনেট ও লিবারম্যান ডানপন্থি রাজনীতিক। নিরাপত্তার প্রশ্নে তাদের অবস্থান কঠোর এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বড় অংশে ইসরাইলের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের পক্ষে তারা। অন্যদিকে গোলান পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের পক্ষে। মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও সরকার গঠনের প্রশ্নে এই নেতারা আইজেনকোটের সঙ্গে জোট করতে পারেন।

নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকার ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি সরকার। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাকে সম্ভবত বর্তমান জোটের কয়েকটি কট্টর ডানপন্থি দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। এসব দলের কয়েকজন নেতা পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘অভিবাসনে’ বাধ্য করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নেতানিয়াহুর নিজের দল লিকুদ পার্টির কয়েকজন সদস্যও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়ার পক্ষে কথা বলেছেন।

নির্বাচনে আরব দলগুলোর দুটি জোটও অংশ নিচ্ছে। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব। তাত্ত্বিকভাবে সরকার গঠনে এসব দলের সমর্থন নির্ণায়ক হতে পারে, তবে প্রধান ইহুদি দলগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব দলই আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটকে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থায় সাধারণত একাধিক দলের সমন্বয়ে জোট করতে হয়।

নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণ শেষ হলেও নতুন সরকার গঠনে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কোনো জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের নির্ভরযোগ্য হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরেও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গাজা প্রশ্নে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট উভয়েই ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটাবেন। পশ্চিম তীরের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু বসতি সম্প্রসারণের নীতি অব্যাহত রাখতে চান, যেখানে আইজেনকোট বিতর্কিত ‘ই-১’ বসতি প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার বিরোধী এবং কিছু অননুমোদিত বসতি সরিয়ে দেয়ার পক্ষে কথা বলছেন।

নির্বাচনের দিন স্থানীয় সময় রাত ১০টায় বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করা হবে। পরদিন প্রাথমিক ফলাফল এবং ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য কাউকে দায়িত্ব দেবেন। এই প্রক্রিয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। সরকার গঠনের জটিলতার নজির হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশটিতে পাঁচবার পৃথক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin