ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুলবাড়ীয়ায় সেচ পাম্পে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি রৌমারীতে মাদকাসক্ত ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচি নিহত, আহত ৩ কক্সবাজারে হোটেলে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন তিন শতাধিক পর্যটক বৈশ্বিক ঋণ ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার ছাড়ালো, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র; বাংলাদেশ ৪৫তম দেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারে বাড়ছে উদ্বেগ ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই ছাপানো বন্ধ, পরিবর্তন হচ্ছে প্রজ্ঞার প্রতীক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের তারকা-সমর্থন, রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অস্ত্র মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন, জনসমক্ষে না আসার কারণ নিরাপত্তা ঈদগাঁও থানা হাজত থেকে পালানো কিশোর পরদিন আটক

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই ছাপানো বন্ধ, পরিবর্তন হচ্ছে প্রজ্ঞার প্রতীক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২৩ অক্টোবর ২০২৬ (2026) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) পাঠ্যবইয়ে ‘প্রজ্ঞা’র প্রতীক হিসেবে ‘মস্তিষ্কে’র জায়গায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ যুক্ত করা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা বইগুলো সংগ্রহ করে বিতর্কিত প্রতীক পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো ফেরত এনে প্রতীকটি সংশোধন শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুনরায় বিতরণ করা হবে। আপাতত ছাপা বন্ধ রাখা ও মাঠের বই সংগ্রহের কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।” অন্যদিকে এনসিটিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দাঁড়িপাল্লা মূলত একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক হওয়ায় এটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করায় তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে ‘জ্ঞানের পিরামিড’ উপস্থাপন করতে গিয়ে নিচ থেকে ওপরের দিকে চারটি স্তর দেখানো হয়েছে—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা চিত্র ব্যবহার করা হয়। উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো একটি বৃত্তাকার প্রতীক, তথ্যের স্তরে দেওয়া হয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তর বোঝাতে রাখা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। তবে পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় দাঁড়িপাল্লাকে।

ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতিতে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে প্যাঁচা ও বইয়ের মতো রূপক সুপরিচিত হলেও পাঠ্যবইটিতে প্রজ্ঞার প্রতীকে বারংবার বদল লক্ষ করা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের পাঠ্যক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ছিল দাঁড়িপাল্লা। পরবর্তীতে চলতি শিক্ষাবর্ষের বইয়ে তা বদলে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি দেওয়া হলেও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে পুনরায় দাঁড়িপাল্লা ফিরিয়ে আনা হয়। এ নিয়ে বিতর্ক ওঠায় সংশোধন শেষে প্রজ্ঞার জায়গায় কোন ছবি রাখা হবে, তা এনসিটিবি এখনো নির্ধারণ করেনি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই মুদ্রিত হয়ে গেছে। এছাড়া উক্ত শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে মুদ্রণমালিকেরা জানিয়েছেন, বইগুলোর ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে মাঠপর্যায় থেকে বই তুলে এনে তা পুনরায় সংশোধন করতে গেলে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ—দুটোই প্রয়োজন হবে। মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বই ছাপানোর গতি এমনিতেই কম, তার ওপর সরবরাহকৃত বই সংগ্রহ ও পরিমার্জন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লেগে যেতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই ছাপানো বন্ধ, পরিবর্তন হচ্ছে প্রজ্ঞার প্রতীক

আপডেট সময় : ০৮:২৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

২৩ অক্টোবর ২০২৬ (2026) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) পাঠ্যবইয়ে ‘প্রজ্ঞা’র প্রতীক হিসেবে ‘মস্তিষ্কে’র জায়গায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ যুক্ত করা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা বইগুলো সংগ্রহ করে বিতর্কিত প্রতীক পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো ফেরত এনে প্রতীকটি সংশোধন শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুনরায় বিতরণ করা হবে। আপাতত ছাপা বন্ধ রাখা ও মাঠের বই সংগ্রহের কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।” অন্যদিকে এনসিটিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দাঁড়িপাল্লা মূলত একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক হওয়ায় এটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করায় তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে ‘জ্ঞানের পিরামিড’ উপস্থাপন করতে গিয়ে নিচ থেকে ওপরের দিকে চারটি স্তর দেখানো হয়েছে—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা চিত্র ব্যবহার করা হয়। উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো একটি বৃত্তাকার প্রতীক, তথ্যের স্তরে দেওয়া হয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তর বোঝাতে রাখা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। তবে পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় দাঁড়িপাল্লাকে।

ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতিতে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে প্যাঁচা ও বইয়ের মতো রূপক সুপরিচিত হলেও পাঠ্যবইটিতে প্রজ্ঞার প্রতীকে বারংবার বদল লক্ষ করা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের পাঠ্যক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ছিল দাঁড়িপাল্লা। পরবর্তীতে চলতি শিক্ষাবর্ষের বইয়ে তা বদলে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি দেওয়া হলেও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে পুনরায় দাঁড়িপাল্লা ফিরিয়ে আনা হয়। এ নিয়ে বিতর্ক ওঠায় সংশোধন শেষে প্রজ্ঞার জায়গায় কোন ছবি রাখা হবে, তা এনসিটিবি এখনো নির্ধারণ করেনি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই মুদ্রিত হয়ে গেছে। এছাড়া উক্ত শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে মুদ্রণমালিকেরা জানিয়েছেন, বইগুলোর ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে মাঠপর্যায় থেকে বই তুলে এনে তা পুনরায় সংশোধন করতে গেলে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ—দুটোই প্রয়োজন হবে। মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বই ছাপানোর গতি এমনিতেই কম, তার ওপর সরবরাহকৃত বই সংগ্রহ ও পরিমার্জন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লেগে যেতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor