ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে রান্নাঘরে মিলল বিশালাকার কিং কোবরা, বন বিভাগের উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিষিদ্ধ আ.লীগ কার্যক্রমের দায়ে নেতা গ্রেপ্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ফি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর বাতিল বিআরটি প্রকল্প, রূপান্তর ৬ লেনের মহাসড়কে চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত শিউলি ফুলের খোঁজে পরীমণি, মুগ্ধ অনুরাগীরা দিলেন নতুন উপাধি ১০ দিনে ৭ খুন: টার্গেট কিলিংয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক বাগেরহাটে গলদা রেণুর তীব্র সংকট, দিশাহারা ৫৪ হাজার চিংড়িচাষি পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি: বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ সাইবার হামলার চেষ্টা অ্যান কারসনের ভাবনায় প্রাচীন লেখা ও ভাঁজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অর্থ

বাগেরহাটে গলদা রেণুর তীব্র সংকট, দিশাহারা ৫৪ হাজার চিংড়িচাষি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগেরহাটে গলদা চিংড়ির রেণু সংকটে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার চাষি চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলায় বর্তমানে ৫৪ হাজার ৮৪৮টি চিংড়ির ঘের রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর ৫৮ কোটি ৬০ লাখ গলদা রেণুর বিশাল চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় হ্যাচারিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় হ্যাচারিগুলো থেকে উৎপাদিত রেণু দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে বাকি ৯৬ শতাংশ চাহিদাই অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।

জেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৯টি হ্যাচারি থাকলেও, বর্তমানে চারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের ফুলবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ব্র্যাক হ্যাচারিটি দীর্ঘ দিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া বাগেরহাট প্রন হ্যাচারি এবং মোরেলগঞ্জের রূপা গলদা হ্যাচারির অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোকসানের মুখে পড়ে হ্যাচারিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর এলাকার চিংড়িচাষি বোরহান মল্লিক জানান, দুই দশকের বেশি সময় ধরে চিংড়ি চাষ করলেও এবারের মতো সংকটে তিনি কখনো পড়েননি। বাগদা চিংড়ি চাষে ভাইরাসের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর লোকসান পুষিয়ে নিতে তিনি ১০০ বিঘার ঘেরে দেড় লাখ গলদা রেণু ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বাজারে রেণু না পাওয়ায় তাকে বেশি দামে ভেঙে ভেঙে পোনা কিনতে হচ্ছে, যা তার উৎপাদন খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। চাকশ্রী গ্রামের চাষি বদিউজ্জামানের অবস্থাও একই; এপ্রিল থেকে জুন মাস রেণু ছাড়ার উপযুক্ত সময় হলেও তিনি মৌসুমের শেষ দিকে এসেও প্রয়োজনীয় পোনা সংগ্রহ করতে পারেননি।

বাগেরহাট চিংড়িচাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, বাস্তবে রেণুর চাহিদা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি। বন্ধ হ্যাচারিগুলো জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সচল করা না গেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, জেলায় মোট ৯টি হ্যাচারির মধ্যে পাঁচটি সচল এবং চারটি বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালু থাকলে চাহিদার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হতো। তিনি আরও বলেন, হ্যাচারিগুলোর মালিকদের লাইসেন্স নবায়ন করে কার্যক্রম শুরু করার জন্য বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় এখন তাদের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বাগেরহাটে গলদা রেণুর তীব্র সংকট, দিশাহারা ৫৪ হাজার চিংড়িচাষি

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

বাগেরহাটে গলদা চিংড়ির রেণু সংকটে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার চাষি চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলায় বর্তমানে ৫৪ হাজার ৮৪৮টি চিংড়ির ঘের রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর ৫৮ কোটি ৬০ লাখ গলদা রেণুর বিশাল চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় হ্যাচারিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় হ্যাচারিগুলো থেকে উৎপাদিত রেণু দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে বাকি ৯৬ শতাংশ চাহিদাই অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।

জেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৯টি হ্যাচারি থাকলেও, বর্তমানে চারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের ফুলবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ব্র্যাক হ্যাচারিটি দীর্ঘ দিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া বাগেরহাট প্রন হ্যাচারি এবং মোরেলগঞ্জের রূপা গলদা হ্যাচারির অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোকসানের মুখে পড়ে হ্যাচারিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর এলাকার চিংড়িচাষি বোরহান মল্লিক জানান, দুই দশকের বেশি সময় ধরে চিংড়ি চাষ করলেও এবারের মতো সংকটে তিনি কখনো পড়েননি। বাগদা চিংড়ি চাষে ভাইরাসের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর লোকসান পুষিয়ে নিতে তিনি ১০০ বিঘার ঘেরে দেড় লাখ গলদা রেণু ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বাজারে রেণু না পাওয়ায় তাকে বেশি দামে ভেঙে ভেঙে পোনা কিনতে হচ্ছে, যা তার উৎপাদন খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। চাকশ্রী গ্রামের চাষি বদিউজ্জামানের অবস্থাও একই; এপ্রিল থেকে জুন মাস রেণু ছাড়ার উপযুক্ত সময় হলেও তিনি মৌসুমের শেষ দিকে এসেও প্রয়োজনীয় পোনা সংগ্রহ করতে পারেননি।

বাগেরহাট চিংড়িচাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, বাস্তবে রেণুর চাহিদা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি। বন্ধ হ্যাচারিগুলো জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সচল করা না গেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, জেলায় মোট ৯টি হ্যাচারির মধ্যে পাঁচটি সচল এবং চারটি বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালু থাকলে চাহিদার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হতো। তিনি আরও বলেন, হ্যাচারিগুলোর মালিকদের লাইসেন্স নবায়ন করে কার্যক্রম শুরু করার জন্য বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় এখন তাদের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh