ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশ: ‘নাই’ শব্দের সূত্র ধরে যেভাবে নিশ্চিত হয় খবরটি
- আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে সমালোচনার মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় রোববার। শনিবার তিনি নিজেই সেই অভিযানের ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। রোববার সকালে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকার বা দলের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই নজর ছিল সাংবাদিকদের। বৈঠকে ইশরাক হোসেনকে নিয়ে কোনো আলোচনা না হলেও সভা শুরুর আগেই তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ঢুকতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে উপস্থিতি সাধারণ ঘটনা হলেও সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে বিষয়টি কৌতুহলের সৃষ্টি করে। বৈঠক শেষ হওয়ার পর একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, মন্ত্রিসভার সভায় তাঁকে নিয়ে কথা হয়নি। তবে সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই ডেকে পাঠিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ইশরাক বেরিয়ে যাওয়ার পর ভেতরে ঠিক কী কথা হয়েছে, তা জানতে শুরু হয় নিবিড় অনুসন্ধান।
ঘটনাক্রম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের কাছে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রথমে কিছুই বলতে চাইছিলেন না। দীর্ঘ আলাপের একপর্যায়ে তিনি কেবল একটি শব্দ উচ্চারণ করেন—‘নাই’। অর্থাৎ মন্ত্রিসভায় ইশরাক হোসেন আর থাকছেন না এবং তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে আট বছর ধরে প্রথম আলোর রিপোর্টিং বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হয় না।
তথ্যটি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথম আলোর চিফ অব ফাস্ট রিপোর্টিং টিপু সুলতানকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে তথ্যটি পুনরায় যাচাই করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টার পর রোববার রাত ১০টার দিকে প্রথম আলো অনলাইনে ‘মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং প্রতিবেদনটির সত্যতা ও সূত্রের পরিচয় জানতে অজস্র ফোন আসতে থাকে। অন্যদিকে, বিটিভি রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবরটি স্ক্রলে সম্প্রচার করে। যদিও কিছুক্ষণ পর সেই স্ক্রল সরিয়ে নিয়ে বিটিভি জানায় যে ইশরাক পদত্যাগের খবর অস্বীকার করেছেন। স্বয়ং ইশরাক হোসেনও একটি অডিও বার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটিকে ‘গুজব’ ও ‘ভুয়া’ দাবি করে পোস্ট দিতে থাকেন। তবে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা থাকায় প্রথম আলো তার প্রকাশিত প্রতিবেদনে অটল থাকে।
সব নাটకీయতার অবসান ঘটে পরদিন সোমবার সকাল সাড়ে আটটায়। ইশরাক হোসেন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানান যে, বেলা দুইটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন। এভাবে প্রথম আলোর প্রকাশিত আগাম প্রতিবেদনের সত্যতা দিনশেষে নিশ্চিত হয়।



























