সীতাকুণ্ডে আইনশৃঙ্খলা সভায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও নেতাদের ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৩:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের তোপের মুখে পড়েছে পুলিশ। মাদক কারবারিদের থেকে অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া, থানায় কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ রাখা এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এক কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা চলাকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহরাম আলী অভিযোগ করেন, অনেক সময় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করার পর অনৈতিক লেনদেনের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। একই প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চিকিৎসক কমল কদর দাবি করেন, ধরা পড়া মাদক কারবারিরা সীতাকুণ্ড থানার কথিত এক ব্যক্তির সঙ্গে টাকা লেনদেনের কথা বলে থাকে। তবে এসব দাবির সপক্ষে সভায় কোনো দাপ্তরিক তথ্যপ্রমাণ বা নথি পেশ করা হয়নি।
উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, থানায় তথাকথিত কোনো ‘ক্যাশিয়ার’ বা অর্থ সংগ্রাহক নেই। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থানে থেকে কাজ করছে। সভায় সারবোঝাই ট্রাকের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. আইয়ুব আলীর গ্রেপ্তার ও মামলা নিয়েও আলোচনা হয়। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মোরসালিন অভিযোগ করেন, কৃষি দপ্তরের পরামর্শে সার পরিবহনের সঠিকতা যাচাই করতে গেলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়। বিপরীতে পুলিশ জানায়, সারগুলো নিলামে কেনা হয়েছিল এবং স্থানান্তরের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও চলাচলে বাধা দেওয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সভায় সীতাকুণ্ড মডেল থানা, বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা ও কোস্ট গার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর। একই সঙ্গে তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও সংঘাতের বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানান। কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলক উপস্থিত করানোর আইনি সুযোগ নেই। তবে অনুপস্থিতির এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। সভায় সম্প্রতি সলিমপুর এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি, বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার ও কৃষিসরঞ্জাম চুরির ঘটনা নিয়েও গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়।


























