প্যারিসে সহিংসতা ও অস্থিরতা: ২০২৭ নির্বাচন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

প্যারিসের রাস্তায় আজ সহিংসতার চিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে, সভ্যতার সংকট অনেক সময় তার সবচেয়ে সুন্দর মুখের ওপরই আঘাত হানে। স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ঐতিহাসিক প্রতীক এই শহরের রাস্তায় ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে নিছক আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ।
১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভের সূত্র ধরে ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সরকারি পরিষেবার অবনতি, শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে জনঅসন্তোষ তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সরকারি ভবনে হামলা, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী বামপন্থীরা পুলিশের কৌশল ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতির সমালোচনা করছেন। উভয়পক্ষই রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে।
১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব রাজতন্ত্রের বৈধতা, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সংকটে ইতিহাসের কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছিল। সেই বিপ্লবের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন যে, জনতার ক্ষোভ ন্যায়সংগত হলেও প্রতিটি বহিঃপ্রকাশ ন্যায়সংগত নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কখনোই অপরাধ করার লাইসেন্স হতে পারে না। এর আগে ২০১৮ সালের ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলনও প্রমাণ করেছিল যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কীভাবে জাতীয় সংকটে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক উসকানি দেখছেন, আবার জ্যঁ-লুক মেলেশোঁ পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করছেন। ডানপন্থী নেতা মেরিন ল্য পেন ও জর্দান বারদেলা কঠোর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এই সহিংসতার পেছনে কি কোনো সংগঠিত উসকানি ছিল, নাকি এটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ—তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। তবে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অস্থিরতা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী বছরের ১৮ এপ্রিল নির্বাচনের প্রথম দফা এবং ২ মে দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যদিও সহিংসতা মানেই নির্বাচনী ষড়যন্ত্র নয়, তবুও এটি সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে।
প্রতিবাদ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু সেই অধিকারের নামে অন্যের সম্পদ ধ্বংস করা বা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলা নৈতিকতার চরম অবক্ষয়। শৃঙ্খলা রক্ষার নামে নাগরিক স্বাধীনতা যেন পদদলিত না হয়, আবার বিপ্লবের নামেও যেন নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠিত না হয়—সেই ভারসাম্যই এখন ফ্রান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।



























