ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মতলব উত্তরে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক কলকাতার পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী ও শিশুসহ নিহত ১৮ মাছরাঙা টিভির দুঃখ প্রকাশে ক্ষুব্ধ পরীমণি, নিজেকেই দায়ী করলেন অপরাধী হিসেবে নেতানিয়াহুকে হটাতে ইসরায়েলের পাঁচ বিরোধী নেতার অনাক্রমণ চুক্তি ২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চাপে বাংলাদেশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে: আফগানিস্তানকে ৩৩ রানে হারিয়ে বাংলাদেশের জয় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদকসহ ছাত্রদলের দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪ জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরপর দুই দিন গরুভোজ ঘিরে বিতর্ক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঘটা করে ‘গরুভোজের’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে খাবারের ব্যবস্থা করার পরদিন শনিবার সকালে উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। পরে বেলা সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণ করা হয়। রাতে ক্যাম্পাসে কাওয়ালি সন্ধ্যারও আয়োজন করে সংগঠনটি। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজার সময়ে পরপর দুই দিন এমন আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরে সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবারের কর্মসূচির উদ্যোক্তারা জানান, এ আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০ হাজার ৫০০ টাকার একটি গরু কেনার জন্য জনপ্রতি ৪০ টাকা করে নিবন্ধন ফি নেওয়া হয়। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে ছয় শতাধিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির মাংসের কাচ্চির ব্যবস্থা রাখার দাবি করেছেন আয়োজকেরা। খেলাফত ছাত্র মজলিসের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম জানান, এটি একটি প্রতিবাদী আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধর্ম ও মতের শিক্ষার্থীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখতেই এই গরুভোজ ও কাওয়ালি সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একই স্থানে জকসুর ব্যানারে ‘জবিয়ানদের গরুভোজ’ কর্মসূচির অধীনে গরু জবাই করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খিচুড়ি ও গরুর মাংস বিতরণ করা হয়। উল্লেখযোগ্য যে, জকসুর নির্বাচিত কমিটির সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) অধিকাংশ সদস্যই ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা। টানা দুই দিনের এই কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান জানান, শুক্রবারের আয়োজন নিয়ে কিছু আপত্তি থাকলেও সামগ্রিক পরিবেশ ভালো ছিল এবং সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবারের কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রশাসন প্রথমে খেলাফত ছাত্র মজলিসকে অনুমতি দিতে চায়নি, তবে পরবর্তীতে কিছু শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করা হয়।

এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের সময় ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন নিয়ে জবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, ঈদে গরু জবাইয়ের রীতি থাকলেও একটি সম্প্রদায়ের উৎসব চলাকালে গরু জবাই করে নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। ব্যক্তিস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানো অনুচিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন মন্তব্য করেন, উসকানি না দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া উচিত ছিল। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসবের সময় এই ধরনের কর্মসূচির আগে সবার ভাবা দরকার ছিল।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমেদ জানান, অতীতেও ক্যাম্পাসে গরু কোরবানি ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করাতেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অহেতুক রাজনৈতিক চিল্লাপাল্লা বা সাম্প্রদায়িক চিন্তার কোনো কারণ ছিল না। পাশাপাশি শনিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি লেখেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটা করে গরু জবাইয়ের তাৎপর্য অপরিসীম, যা জাতি শিগগিরই অনুধাবন করবে। ব্যঙ্গ করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং শীর্ষ পাঁচে নিয়ে যাওয়ার মতো একাডেমিক অর্জন, ইসলামের ঐতিহাসিক বিজয় এবং গরু জবাইয়ের মাধ্যমেই দেশ যে স্বাধীন তা নতুন করে প্রমাণের উপায়।

সামপ্রতিক এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ১২ অক্টোবর রাতে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্না করেন। স্থানটি কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে হওয়ায় এবং রান্নার চুলা তৈরিতে মন্দিরের ইট ব্যবহার করার অভিযোগে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর প্রক্টর দপ্তর থেকে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার কারণ দেখিয়ে ক্যাম্পাসে পশু জবাই না করার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় এবং তা অমান্য করলে সিটি করপোরেশনের আইন প্রয়োগের বার্তা দেওয়া হয়।

প্রক্টর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে গত বুধবার রাতে জকসুর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা মিছিল ও সমাবেশ করে চার দফা দাবি উত্থাপন করে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্যাফেটেরিয়ায় গরু ও খাসির মাংসের ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করে স্পষ্ট করে যে, ক্যাম্পাসে অন্যের ভাবাবেগ ও কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে যে কারও যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার রয়েছে, এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা এড়াতেই প্রক্টরের প্রাথমিক নির্দেশনামূলক অনুরোধটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরপর দুই দিন গরুভোজ ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় : ১২:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঘটা করে ‘গরুভোজের’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে খাবারের ব্যবস্থা করার পরদিন শনিবার সকালে উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। পরে বেলা সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণ করা হয়। রাতে ক্যাম্পাসে কাওয়ালি সন্ধ্যারও আয়োজন করে সংগঠনটি। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজার সময়ে পরপর দুই দিন এমন আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরে সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবারের কর্মসূচির উদ্যোক্তারা জানান, এ আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০ হাজার ৫০০ টাকার একটি গরু কেনার জন্য জনপ্রতি ৪০ টাকা করে নিবন্ধন ফি নেওয়া হয়। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে ছয় শতাধিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির মাংসের কাচ্চির ব্যবস্থা রাখার দাবি করেছেন আয়োজকেরা। খেলাফত ছাত্র মজলিসের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম জানান, এটি একটি প্রতিবাদী আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধর্ম ও মতের শিক্ষার্থীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখতেই এই গরুভোজ ও কাওয়ালি সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একই স্থানে জকসুর ব্যানারে ‘জবিয়ানদের গরুভোজ’ কর্মসূচির অধীনে গরু জবাই করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খিচুড়ি ও গরুর মাংস বিতরণ করা হয়। উল্লেখযোগ্য যে, জকসুর নির্বাচিত কমিটির সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) অধিকাংশ সদস্যই ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা। টানা দুই দিনের এই কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান জানান, শুক্রবারের আয়োজন নিয়ে কিছু আপত্তি থাকলেও সামগ্রিক পরিবেশ ভালো ছিল এবং সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবারের কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রশাসন প্রথমে খেলাফত ছাত্র মজলিসকে অনুমতি দিতে চায়নি, তবে পরবর্তীতে কিছু শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করা হয়।

এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের সময় ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন নিয়ে জবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, ঈদে গরু জবাইয়ের রীতি থাকলেও একটি সম্প্রদায়ের উৎসব চলাকালে গরু জবাই করে নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। ব্যক্তিস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানো অনুচিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন মন্তব্য করেন, উসকানি না দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া উচিত ছিল। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসবের সময় এই ধরনের কর্মসূচির আগে সবার ভাবা দরকার ছিল।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমেদ জানান, অতীতেও ক্যাম্পাসে গরু কোরবানি ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করাতেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অহেতুক রাজনৈতিক চিল্লাপাল্লা বা সাম্প্রদায়িক চিন্তার কোনো কারণ ছিল না। পাশাপাশি শনিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি লেখেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটা করে গরু জবাইয়ের তাৎপর্য অপরিসীম, যা জাতি শিগগিরই অনুধাবন করবে। ব্যঙ্গ করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং শীর্ষ পাঁচে নিয়ে যাওয়ার মতো একাডেমিক অর্জন, ইসলামের ঐতিহাসিক বিজয় এবং গরু জবাইয়ের মাধ্যমেই দেশ যে স্বাধীন তা নতুন করে প্রমাণের উপায়।

সামপ্রতিক এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ১২ অক্টোবর রাতে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্না করেন। স্থানটি কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে হওয়ায় এবং রান্নার চুলা তৈরিতে মন্দিরের ইট ব্যবহার করার অভিযোগে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর প্রক্টর দপ্তর থেকে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার কারণ দেখিয়ে ক্যাম্পাসে পশু জবাই না করার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় এবং তা অমান্য করলে সিটি করপোরেশনের আইন প্রয়োগের বার্তা দেওয়া হয়।

প্রক্টর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে গত বুধবার রাতে জকসুর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা মিছিল ও সমাবেশ করে চার দফা দাবি উত্থাপন করে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্যাফেটেরিয়ায় গরু ও খাসির মাংসের ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করে স্পষ্ট করে যে, ক্যাম্পাসে অন্যের ভাবাবেগ ও কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে যে কারও যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার রয়েছে, এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা এড়াতেই প্রক্টরের প্রাথমিক নির্দেশনামূলক অনুরোধটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo