ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিষ্টির শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে জামানত ২০ হাজার টাকা ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৫ সাংবাদিক লুৎফুর জামান ফকির হত্যায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ফেসবুকে মৃত্যুর পর প্রোফাইল: স্মারক না ডিলিট, সিদ্ধান্ত আপনার ভারত ও চীনের ওপর ১০০% শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করলেন ট্রাম্প নতুন লুকে নুসরাত ফারিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শিশু হাসপাতালে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাবার পাশে ঘুমন্ত অবস্থায় নিখোঁজ শিশুর লাশ ৫৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার উত্তরায় পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, আহত ২ কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ৯ পর্যটকের মৃত্যু, শনাক্ত ৬

গণহত্যাকারী দল হিসেবে আ.লীগের বিচার ও কার্যক্রম নিয়ে সংশয়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে দ্রুত ও কঠোর বিচারের আওতায় আনার দাবি দেশজুড়ে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে শান্তিতে নোবেলজয়ী ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা চেষ্টার ঘটনার পর এই দাবি নতুন মাত্রা পেয়েছে। দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবাসী কয়েকজন কর্মী ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা করেন, যা নিরাপত্তা রক্ষীদের হস্তক্ষেপে প্রতিহত করা হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম এই ঘটনাকে আওয়ামী লীগের সহিংস ও অমানবিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিলম্বে গণহত্যাকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর আহ্বান জানান। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর রহমান আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবেও আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দলগতভাবে অপরাধ ও সহিংসতায় জড়িত থাকার প্রমাণ চূড়ান্ত হলে ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় সংগঠনটিকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তি দেওয়ার আইনি পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বিচারের ধরণ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন বলেন, ফ্যাসিস্ট পার্টি হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে এবং বিচারের পর বাংলাদেশে এই নামে আর কোনো দল থাকা উচিত নয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বিচারের দুটি দিক তুলে ধরেন—প্রথমত, ব্যক্তি পর্যায়ে অপরাধীদের বিচার এবং দ্বিতীয়ত, দল হিসেবে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, অনেক অপরাধী জামিনে বেরিয়ে এসে ছাত্রজনতাকে হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া নির্বাহী আদেশে দল নিষিদ্ধ হলেও এর বিচারিক ভিত্তি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, আগস্টের গণহত্যাকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে দেশজুড়ে বিস্তৃত অপরাধের ব্যাপ্তি তদন্তে সময় নিচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র অবশ্য তদন্তের মন্থর গতি এবং আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

২০২৫ সালের ১০ মে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে সংশোধন এনে ট্রাইব্যুনালকে যেকোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা, তাদের কার্যকলাপ স্থগিত করা, নিবন্ধন বাতিল করা কিংবা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো শাস্তিমূলক আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ এবং পরে নির্বাচন কমিশন থেকে দলটির নিবন্ধন স্থগিত করা হয়। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দলগতভাবে অপরাধ ও সহিংসতার প্রমাণ চূড়ান্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

গণহত্যাকারী দল হিসেবে আ.লীগের বিচার ও কার্যক্রম নিয়ে সংশয়

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে দ্রুত ও কঠোর বিচারের আওতায় আনার দাবি দেশজুড়ে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে শান্তিতে নোবেলজয়ী ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা চেষ্টার ঘটনার পর এই দাবি নতুন মাত্রা পেয়েছে। দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবাসী কয়েকজন কর্মী ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা করেন, যা নিরাপত্তা রক্ষীদের হস্তক্ষেপে প্রতিহত করা হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম এই ঘটনাকে আওয়ামী লীগের সহিংস ও অমানবিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিলম্বে গণহত্যাকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর আহ্বান জানান। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর রহমান আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবেও আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দলগতভাবে অপরাধ ও সহিংসতায় জড়িত থাকার প্রমাণ চূড়ান্ত হলে ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় সংগঠনটিকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তি দেওয়ার আইনি পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বিচারের ধরণ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন বলেন, ফ্যাসিস্ট পার্টি হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে এবং বিচারের পর বাংলাদেশে এই নামে আর কোনো দল থাকা উচিত নয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বিচারের দুটি দিক তুলে ধরেন—প্রথমত, ব্যক্তি পর্যায়ে অপরাধীদের বিচার এবং দ্বিতীয়ত, দল হিসেবে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, অনেক অপরাধী জামিনে বেরিয়ে এসে ছাত্রজনতাকে হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া নির্বাহী আদেশে দল নিষিদ্ধ হলেও এর বিচারিক ভিত্তি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, আগস্টের গণহত্যাকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে দেশজুড়ে বিস্তৃত অপরাধের ব্যাপ্তি তদন্তে সময় নিচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র অবশ্য তদন্তের মন্থর গতি এবং আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

২০২৫ সালের ১০ মে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে সংশোধন এনে ট্রাইব্যুনালকে যেকোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা, তাদের কার্যকলাপ স্থগিত করা, নিবন্ধন বাতিল করা কিংবা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো শাস্তিমূলক আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ এবং পরে নির্বাচন কমিশন থেকে দলটির নিবন্ধন স্থগিত করা হয়। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দলগতভাবে অপরাধ ও সহিংসতার প্রমাণ চূড়ান্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh