ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকার ২৫৭ পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করল ডিএমপি কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট কুড়িগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: একই পরিবারের ৬ জনসহ নিহত ১০ একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিলের দাবিতে এনসিপির তিন দফা শারদীয় দুর্গাপূজায় বান্দরবানে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারি উখিয়ার রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু, একই পরিবারের ৮ মিষ্টির শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে জামানত ২০ হাজার টাকা ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৫

গায়ে হলুদের দিনই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন বর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যা প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। গত ১৬ দিনেই ৯০টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গায়ে হলুদের দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক বরের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২১ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সন্তানকে হারিয়েছেন মা-বাবা। মৃত দুই ভাই হলো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র মো. নাজমুল হাসান ইফতি (২৪) এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইনতিসার হাসান ইয়াস (১৬)। তাদের মা নাজমিন আক্তার জানান, ডেঙ্গুর কারণে তার পরিবারের সব আনন্দ শেষ হয়ে গেছে এবং তার স্বামীও বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত। এছাড়া চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক মাসে একই বাড়িতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ১৮১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা যাওয়া চারজনই ঢাকা বিভাগের এবং তাদের বয়স ২৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জন। এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন। সরকারি তথ্যমতে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে নারী ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ।

মশার বিস্তার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে বিস্তৃত একটি রোগে পরিণত হয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে 'ঢাকা জ্বর' নামে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ২০০০ সালে এর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় গত ১২ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন মাসের একটি বিশেষ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করা।

তবে জনস্বাস্থ্যবিদ ও সিডিসির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আশা করার মতো কিছু দেখতে পাচ্ছি না, বরং হতাশার চিত্রটাই বেশি। এখন ডেঙ্গু শুধু ঢাকা শহর নয়, গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। অধ্যাপক বে-নজির আহমেদের মতে, বর্তমানে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের যে পদ্ধতি, সেটা পদ্ধতিই ভুল। ২০০০ সাল থেকে একই পদ্ধতিতে কাজ করেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি সারা দেশে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

গায়ে হলুদের দিনই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন বর

আপডেট সময় : ০৬:৩০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যা প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। গত ১৬ দিনেই ৯০টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গায়ে হলুদের দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক বরের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২১ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সন্তানকে হারিয়েছেন মা-বাবা। মৃত দুই ভাই হলো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র মো. নাজমুল হাসান ইফতি (২৪) এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইনতিসার হাসান ইয়াস (১৬)। তাদের মা নাজমিন আক্তার জানান, ডেঙ্গুর কারণে তার পরিবারের সব আনন্দ শেষ হয়ে গেছে এবং তার স্বামীও বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত। এছাড়া চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক মাসে একই বাড়িতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ১৮১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা যাওয়া চারজনই ঢাকা বিভাগের এবং তাদের বয়স ২৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জন। এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন। সরকারি তথ্যমতে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে নারী ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ।

মশার বিস্তার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে বিস্তৃত একটি রোগে পরিণত হয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে 'ঢাকা জ্বর' নামে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ২০০০ সালে এর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় গত ১২ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন মাসের একটি বিশেষ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করা।

তবে জনস্বাস্থ্যবিদ ও সিডিসির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আশা করার মতো কিছু দেখতে পাচ্ছি না, বরং হতাশার চিত্রটাই বেশি। এখন ডেঙ্গু শুধু ঢাকা শহর নয়, গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। অধ্যাপক বে-নজির আহমেদের মতে, বর্তমানে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের যে পদ্ধতি, সেটা পদ্ধতিই ভুল। ২০০০ সাল থেকে একই পদ্ধতিতে কাজ করেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি সারা দেশে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin