ঢাকা ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় রশমি দেশাই, জানালেন কেন দূরে ছিলেন আজকের খেলার সূচি: বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ও ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াই স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তিতে আকাশে উড়বে টেসলার ‘রোডস্টার ২’ গণহত্যাকারী দল হিসেবে আ.লীগের বিচার ও কার্যক্রম নিয়ে সংশয় গায়ে হলুদের দিনই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন বর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ দখল করতে চায় হুতিরা পেরুর আন্দিজে মেসির নামে নতুন উদ্ভিদ ‘সালভিয়া মেসি’র সন্ধান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁসে এনবিআর কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭ রাউজানে এক অপরাধী চক্র গ্রেপ্তারের পর মাথাচাড়া দিচ্ছে আলম-আজিজ বাহিনী জামায়াত, এনসিপি ও গণঅধিকার নেতাদের তীব্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি

প্রাথমিক গণিত শিক্ষায় এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে ডাচ গবেষকদের গবেষণা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের মতো পাটিগণিতের প্রাথমিক বিষয়গুলো শিশুরা সাধারণত আঙুল গুনে, মুখে বলে বা মুখস্থ করে শেখে। তবে নেদারল্যান্ডসের রাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন গবেষক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-যুক্ত শিখন-প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালিয়েছেন। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিন বছর ধরে চলা এই গবেষণায় মোট ৭ হাজার ৮৮৫ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০৩ জন বা ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে এআই-সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়, আর বাকি ৩ হাজার ২৮২ বা ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রচলিত পদ্ধতিতে পাঠ গ্রহণ করে। গবেষণায় ১ থেকে ৪ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং ছোট ও বড় উভয় ধরনের বিদ্যালয়ই এতে অংশ নিয়েছিল।

গবেষণায় কোনো আলাদা পাঠ্যবই ব্যবহার করা হয়নি; শিশুরা শ্রেণিকক্ষে ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার করেছে। এআই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, এটি শিক্ষার্থীর দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনুশীলনের মাত্রা নির্ধারণ করে। কোনো শিশু সঠিকভাবে অনুশীলন শেষ করলে তাকে অপেক্ষাকৃত জটিল অঙ্ক দেওয়া হয়, আর ভুল করলে সহজতর অনুশীলন সামনে আসে। শিক্ষকেরা ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ডেটা দেখে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিতে পারেন।

ফলাফলে দেখা গেছে, সাধারণ পাঠদানের চেয়ে এআই-যুক্ত শিখন-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাটিগণিতে উন্নতির ইতিবাচক প্রবণতা বেশি। যদিও দুই ধরনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিসংখ্যানগত পার্থক্য খুব বড় নয়, তবে চতুর্থ শ্রেণিতে পৌঁছানোর পর সামগ্রিকভাবে এআই ব্যবহারকারীদের অগ্রগতি বেশি ছিল। বিশেষ করে আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার গণিত শেখার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যা বৈষম্য দূর করতে সহায়তা করেছে। এছাড়া বড় বিদ্যালয়গুলোতে যেখানে শিক্ষকের পক্ষে সব শিক্ষার্থীকে সমান নজর দেওয়া কঠিন, সেখানেও এআই প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের ছোট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো সমান অগ্রগতি অর্জনে সাহায্য করেছে।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন যে, এআই কখনো শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না। শ্রেণিকক্ষের বাস্তব পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিহার্য। এই প্রযুক্তি কেবল তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করে, তাই শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। গত মাসে এলসিভিয়ারের 'লার্নিং অ্যান্ড ইনস্ট্রাকশন' জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্তরে গণিত শিক্ষায় এআই একটি নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে তা শিক্ষার মান উন্নয়নে ও সমাজে বৈষম্য দূর করতে সহায়তা করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রাথমিক গণিত শিক্ষায় এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে ডাচ গবেষকদের গবেষণা

আপডেট সময় : ০৩:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের মতো পাটিগণিতের প্রাথমিক বিষয়গুলো শিশুরা সাধারণত আঙুল গুনে, মুখে বলে বা মুখস্থ করে শেখে। তবে নেদারল্যান্ডসের রাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন গবেষক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-যুক্ত শিখন-প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালিয়েছেন। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিন বছর ধরে চলা এই গবেষণায় মোট ৭ হাজার ৮৮৫ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০৩ জন বা ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে এআই-সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়, আর বাকি ৩ হাজার ২৮২ বা ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রচলিত পদ্ধতিতে পাঠ গ্রহণ করে। গবেষণায় ১ থেকে ৪ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং ছোট ও বড় উভয় ধরনের বিদ্যালয়ই এতে অংশ নিয়েছিল।

গবেষণায় কোনো আলাদা পাঠ্যবই ব্যবহার করা হয়নি; শিশুরা শ্রেণিকক্ষে ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার করেছে। এআই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, এটি শিক্ষার্থীর দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনুশীলনের মাত্রা নির্ধারণ করে। কোনো শিশু সঠিকভাবে অনুশীলন শেষ করলে তাকে অপেক্ষাকৃত জটিল অঙ্ক দেওয়া হয়, আর ভুল করলে সহজতর অনুশীলন সামনে আসে। শিক্ষকেরা ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ডেটা দেখে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিতে পারেন।

ফলাফলে দেখা গেছে, সাধারণ পাঠদানের চেয়ে এআই-যুক্ত শিখন-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাটিগণিতে উন্নতির ইতিবাচক প্রবণতা বেশি। যদিও দুই ধরনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিসংখ্যানগত পার্থক্য খুব বড় নয়, তবে চতুর্থ শ্রেণিতে পৌঁছানোর পর সামগ্রিকভাবে এআই ব্যবহারকারীদের অগ্রগতি বেশি ছিল। বিশেষ করে আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার গণিত শেখার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যা বৈষম্য দূর করতে সহায়তা করেছে। এছাড়া বড় বিদ্যালয়গুলোতে যেখানে শিক্ষকের পক্ষে সব শিক্ষার্থীকে সমান নজর দেওয়া কঠিন, সেখানেও এআই প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের ছোট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো সমান অগ্রগতি অর্জনে সাহায্য করেছে।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন যে, এআই কখনো শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না। শ্রেণিকক্ষের বাস্তব পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিহার্য। এই প্রযুক্তি কেবল তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করে, তাই শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। গত মাসে এলসিভিয়ারের 'লার্নিং অ্যান্ড ইনস্ট্রাকশন' জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্তরে গণিত শিক্ষায় এআই একটি নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে তা শিক্ষার মান উন্নয়নে ও সমাজে বৈষম্য দূর করতে সহায়তা করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo