২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের বস্ত্রশিল্পের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ২০৫০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন বাড়িয়ে ১৯ লাখ বেলে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৬ লাখ বেল তুলার চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে মাত্র ১৮ থেকে ২০ শতাংশ চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন জানিয়েছেন, দেশের ৫০টিরও বেশি জেলায় তুলা চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লাখ বেল, ২০৪০ সালের মধ্যে ১০ লাখ বেল এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ বেল আঁশতুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তুলা চাষের জমি দুই লাখ হেক্টরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার ও নীলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে দেশের ৩৯টি জেলার ১৩২টি উপজেলায় প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হচ্ছে, যার মধ্যে ৬৯ শতাংশ উফশী এবং ৩১ শতাংশ পাহাড়ি জাতের। এই জমি থেকে বছরে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার বেল আঁশতুলা পাওয়া যায়।
তুলা উৎপাদন বাড়াতে উঁচু চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল, পাহাড়ি জমি, কম উর্বর জমি, লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ এলাকা এবং বিভিন্ন ফলের বাগান বা সবজির সাথে আন্তঃফসল হিসেবে তুলা চাষের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকারি খাসজমিও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময় সভায় সিডিবিকে বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম সভায়ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি ব্যয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
স্বাধীনতার পরপরই সিডিবি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তুলা চাষ সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ১৯৭৬ সালে রংপুর অঞ্চলে ‘ডেল্টাপাইন-১৬’ জাতের চাষ শুরু হয় এবং ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তুলাবীজ আমদানির মাধ্যমে গবেষণার পথ প্রশস্ত করেন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে যশোরের চৌগাছায় ‘কটন রিসার্চ সেন্টার অ্যান্ড সিড প্রোডাকশন ফার্ম’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক তুলা গবেষণা ও বীজ উৎপাদন ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সিডিবির মাঠপর্যায়ে জনবল সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে অনুমোদিত ৮৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৮৩ জন। সিডিবির মৃত্তিকা পুষ্টি ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. মো. গাজী গোলাম মর্তুজা জানান, পাট চাষের তুলনায় তুলা অনেক বেশি লাভজনক। বিঘা প্রতি ১৫ হাজার টাকা খরচে কৃষক প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। এছাড়া মাটির উর্বরতা রক্ষায়ও তুলা চাষ সহায়ক। সিডিবির তথ্যমতে, প্রতি কেজি তুলা উৎপাদনের মাধ্যমে সরকার চার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করতে পারে। তবে বস্ত্রশিল্পের প্রকৃত চাহিদা বছরে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লাখ বেল, যেখানে স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাঁচা তুলা ও সুতা আমদানিতে সরকারকে ৮০ হাজার কোটি টাকা বা ৬.৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিডিবির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খামারের নাম পরিবর্তন করে ‘কটন রিসার্চ, ট্রেনিং অ্যান্ড সিড মাল্টিপ্লিকেশন ফার্ম’ রাখেন। ১৯৯৪ সালে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি তুলা খামার উদ্বোধন করেন।
তুলা চাষের আর্থিক সুবিধা তুলে ধরে সিডিবির বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বিপরীতে, ওই জমিতে ১৫ মণ (৩৭.৩২ কেজি) কাঁচা তুলা উৎপাদন করে একজন কৃষক প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।



























