সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে এই হামলাটি চালানো হয়। হামলায় স্থাপনাটিতে আগুন ধরে গেলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরামকোর সদর দপ্তরে এই হামলার আগে হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশে থাকা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সতর্কবার্তা দিয়েছিল এবং এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই সতর্কবার্তার আগে সৌদি জোট কর্তৃক ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় স্টেশন থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন। এই নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় সারি রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
এদিকে, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসার সময় সৌদি আরব সেগুলো প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে এসপিএ। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্রের বরাতে জানা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন।
আরামকো স্থাপনায় হামলার আগে সানায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হুতি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর দাবি, সৌদি-সমর্থিত বাহিনী সানার আল-সাবাহ এলাকায় একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেন অয়েল কোম্পানি আগেই জানিয়েছিল যে তাদের তেল সংরক্ষণাগারগুলো খালি রয়েছে, তাই এই হামলায় তেলের মজুত বা সরবরাহে প্রভাব পড়বে না। এছাড়া সৌদি আরব রাস ইসা বন্দরেও বিমান হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের তেল সংরক্ষণ ট্যাংক এবং হোদেইদা প্রদেশের একটি তেল স্টেশন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেছেন যে, হুতিরা ওই স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপোকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিস্ফোরণের পর ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সানায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে হুতিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ চলমান রয়েছে।

























