ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আবুধাবি টেস্টে জয়ের সুবাস পেয়েও ড্রয়ে হতাশ বাংলাদেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আবুধাবি টেস্টে জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পুড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচের পঞ্চম দিনে হ্যাটট্রিক, পাঁচ উইকেট এবং সেঞ্চুরির মতো রোমাঞ্চকর মুহূর্ত দেখার পরও জয় অধরাই থেকে গেল স্বাগতিকদের। সেদিকুল্লাহ আতালের লড়াকু সেঞ্চুরি এবং শেষ দিকে কায়েস আহমেদের দৃঢ়তায় আফগানিস্তান ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ম্যাচের শেষ সেশনের শেষ বল পর্যন্ত গড়ায় লড়াই। শেষ ১০ ওভারে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য ১৬৮ রানের প্রয়োজন ছিল, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৩টি উইকেট। তবে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে আফগানরা ইনিংস শেষ করে। কায়েস আহমেদ ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে দলের ড্র নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশের জয়ের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল। তিনি ৩৩২ বলে ১১১ রানের এক দীর্ঘ ইনিংস খেলেন, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে তার বিদায়ে কিছুটা আশা জাগলেও বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এর আগে হাসান মাহমুদের একটি ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কায়েস আহমেদ দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন।

শেষ সেশনের শুরুতে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাশমতউল্লাহ শহীদি (৩৬) আউট হলে জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল হয়েছিল বাংলাদেশের। এর আগে লাঞ্চের ঠিক আগে এবাদত হোসেনের বলে ইকরাম আলীখিল (৩৩) লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তবে বিরতির পর লিটন দাসের স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় জীবন পান আতাল, যা পরে আফগানিস্তানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়।

চতুর্থ দিন ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরু থেকেই চাপে ছিল। প্রথম ওভারেই এবাদত হোসেন তুলে নেন আবদুল মালিকের উইকেট। এরপর হাসান মাহমুদের শিকার হন শহীদুল্লাহ। রহমত শাহ ও আতালের ৮২ রানের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১ এবং লিটন দাস ১০২ রান করে দলের সংগ্রহ বড় করেন। ম্যাচের তৃতীয় দিনে হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন। এবাদত হোসেনের চার উইকেটে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস ২৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ১০৬ রানের লিড পেয়েছিল।

৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল আফগানিস্তান। আতাল ও ইকরামের জুটি ভাঙার পরও বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখে আফগান ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রানে ইনিংস শেষ করে তারা।

পরে রহমত শাহ ও আতাল প্রতিরোধ গড়েন। তাদের ৮২ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১২৪ বলে ৫১ রান করে ফেরেন রহমত শাহ। তবে আতালকে থামানো যায়নি শেষ পর্যন্ত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

আবুধাবি টেস্টে জয়ের সুবাস পেয়েও ড্রয়ে হতাশ বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৮:১৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আবুধাবি টেস্টে জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পুড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচের পঞ্চম দিনে হ্যাটট্রিক, পাঁচ উইকেট এবং সেঞ্চুরির মতো রোমাঞ্চকর মুহূর্ত দেখার পরও জয় অধরাই থেকে গেল স্বাগতিকদের। সেদিকুল্লাহ আতালের লড়াকু সেঞ্চুরি এবং শেষ দিকে কায়েস আহমেদের দৃঢ়তায় আফগানিস্তান ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ম্যাচের শেষ সেশনের শেষ বল পর্যন্ত গড়ায় লড়াই। শেষ ১০ ওভারে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য ১৬৮ রানের প্রয়োজন ছিল, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৩টি উইকেট। তবে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে আফগানরা ইনিংস শেষ করে। কায়েস আহমেদ ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে দলের ড্র নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশের জয়ের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল। তিনি ৩৩২ বলে ১১১ রানের এক দীর্ঘ ইনিংস খেলেন, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে তার বিদায়ে কিছুটা আশা জাগলেও বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এর আগে হাসান মাহমুদের একটি ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কায়েস আহমেদ দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন।

শেষ সেশনের শুরুতে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাশমতউল্লাহ শহীদি (৩৬) আউট হলে জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল হয়েছিল বাংলাদেশের। এর আগে লাঞ্চের ঠিক আগে এবাদত হোসেনের বলে ইকরাম আলীখিল (৩৩) লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তবে বিরতির পর লিটন দাসের স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় জীবন পান আতাল, যা পরে আফগানিস্তানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়।

চতুর্থ দিন ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরু থেকেই চাপে ছিল। প্রথম ওভারেই এবাদত হোসেন তুলে নেন আবদুল মালিকের উইকেট। এরপর হাসান মাহমুদের শিকার হন শহীদুল্লাহ। রহমত শাহ ও আতালের ৮২ রানের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১ এবং লিটন দাস ১০২ রান করে দলের সংগ্রহ বড় করেন। ম্যাচের তৃতীয় দিনে হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন। এবাদত হোসেনের চার উইকেটে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস ২৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ১০৬ রানের লিড পেয়েছিল।

৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল আফগানিস্তান। আতাল ও ইকরামের জুটি ভাঙার পরও বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখে আফগান ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রানে ইনিংস শেষ করে তারা।

পরে রহমত শাহ ও আতাল প্রতিরোধ গড়েন। তাদের ৮২ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১২৪ বলে ৫১ রান করে ফেরেন রহমত শাহ। তবে আতালকে থামানো যায়নি শেষ পর্যন্ত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin