ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রবাসীদের সেবায় বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’ কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু রিয়াদে হুতিদের টানা তৃতীয় দিনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ ও আটক ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ডনাল্ড ট্রাম্প ডারবান টেস্টের শেষ দিনে জয়ের সুবাস পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া কটিয়াদীতে ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি কাশেম মিয়া গ্রেপ্তার ইউপি নির্বাচন: বিএনপির সামনে তৃণমূল সামলানোর বড় পরীক্ষা সৌদি আরবে হুতি হামলা: শাহজালাল থেকে ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ৯২৬৯ যাত্রী প্রবাসীদের সংকট সমাধানে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২% ও মূল্যস্ফীতি ১০.৯% হতে পারে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের চলমান যৌথ বার্ষিক সভায় প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আইএমএফের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চূড়ান্ত হিসাবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে এবং সেই বছরে গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ, পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার হ্রাসের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে আইএমএফ ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২৭ সালে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এই দুর্বলতা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগকে সংকুচিত করতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি বাড়ছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুফল দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরানো, জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর-রাজস্ব বাড়ানো এবং সাধারণ ভর্তুকি কমিয়ে দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২% ও মূল্যস্ফীতি ১০.৯% হতে পারে

আপডেট সময় : ১০:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের চলমান যৌথ বার্ষিক সভায় প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আইএমএফের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চূড়ান্ত হিসাবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে এবং সেই বছরে গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ, পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার হ্রাসের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে আইএমএফ ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২৭ সালে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এই দুর্বলতা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগকে সংকুচিত করতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি বাড়ছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুফল দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরানো, জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর-রাজস্ব বাড়ানো এবং সাধারণ ভর্তুকি কমিয়ে দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo