২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২% ও মূল্যস্ফীতি ১০.৯% হতে পারে
- আপডেট সময় : ১০:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের চলমান যৌথ বার্ষিক সভায় প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আইএমএফের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চূড়ান্ত হিসাবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে এবং সেই বছরে গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ, পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার হ্রাসের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে আইএমএফ ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২৭ সালে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এই দুর্বলতা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগকে সংকুচিত করতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি বাড়ছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুফল দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরানো, জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর-রাজস্ব বাড়ানো এবং সাধারণ ভর্তুকি কমিয়ে দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।
আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।





























