ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বড়লেখায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক বিরোধ মেটাতে গিয়ে বৃদ্ধ খুন শাহজালালে এয়ারসাইডে ভিটিএস ঘাটতি: বাড়ছে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ফুটবল লিগে গোলবন্যা: বড় জয় পেল কিংস ও ফর্টিস রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত না করা দুঃখজনক: ইশরাক শ্রীপুরে গুলি করে ৩ কোটি টাকা ছিনতাই, আহত ৪ মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না: দিল্লি অচল করার পদক্ষেপে সুপ্রিম কোর্ট বিদেশে চাকরি ও পরীক্ষায় পাসের নামে প্রতারণা, টেকনিক্যাল মোড়ে গ্রেপ্তার ১২ লালমোহনে মাদরাসা শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগ হত্যা আওয়ামী আমলে সাদা কাগজ জমা দিলেও মিলত জিপিএ-৫: হুইপ দুলু

ভারতে ছাত্র আন্দোলনের ‘পোস্টার গার্ল’ নেহা বোরা কে?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র ও তরুণদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরা। অনশন, জ্বালাময়ী স্লোগান, পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে পড়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট—সব মিলিয়ে তিনি এখন দেশটির ছাত্র আন্দোলনের এক অন্যতম ‘পোস্টার গার্ল’। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাস্থেটিকসের এই পিএইচডি শিক্ষার্থী একই সঙ্গে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি।

উত্তরাখণ্ডের খাটিমার বাসিন্দা নেহার পরিবার মূলত হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির সমর্থক। তাঁর বাবা একজন সেনাসদস্য এবং মা গৃহিণী। ফলে নেহার বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া তাঁর পরিবার সহজভাবে নেয়নি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও বি আর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পারফরম্যান্স স্টাডিজে স্নাতকোত্তর করা নেহা মূলত একজন থিয়েটারকর্মী। ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় থেকেই তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও পড়াশোনা সমান্তরালে এগিয়েছে।

২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা আন্দোলনে যন্তর মন্তরে টানা ২৩ দিন অনশন করেন নেহা। এ সময় তাঁর ওজন প্রায় সাড়ে সাত কেজি কমে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে গেলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি অনশন ভাঙেন। অনশন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর রসাত্মক পোস্টগুলো বেশ সাড়া ফেলে। একটি পোস্টে তিনি নিজের ক্ষুধার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ক্ষমতার ক্ষুধার তুলনা করেন। মেয়ের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে ভিন্নতা থাকলেও অনশনের খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের বেরেলি থেকে ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যন্তর মন্তরে ছুটে এসেছিলেন তাঁর মা।

গত ২৫ জুলাই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নেহা একটি নাচের ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘আমি যদি নাচতে না পারি, তাহলে সেটা আমার বিপ্লব নয়।’ তবে কেবল মন্ত্রীর পদত্যাগকেই তিনি চূড়ান্ত বিজয় মনে করেন না। রাজ্যসভার সদস্য ও আইনজীবী কপিল সিবালের ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘দিল সে’-তে অংশ নিয়ে নেহা বলেন, এটি কেবল কোনো ব্যক্তির পদত্যাগের বিষয় নয়, বরং ব্যবস্থার ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে লড়াই। এআইএসএর পক্ষ থেকে তিনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বিরুদ্ধেও প্রচার চালিয়েছেন। আগস্টে শুরু হওয়া তাঁদের ‘জেন-জি রাইজিং’ প্রচারণাকে অনেকেই ‘রাহুল গান্ধীর কায়দা’ বলে অভিহিত করেছেন।

আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়েছেন নেহা। গত ৭ আগস্ট ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে বিধানসভা অভিমুখে মিছিলের সময় এক ব্যক্তি তাঁর মুখে কালি ছুড়ে মারেন। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করলে তিনি জানান, জেএনইউর সাবেক শিক্ষার্থী উমর খালিদের পক্ষে কথা বলায় তিনি নেহার মুখে কালি দিয়েছেন। তবে নেহা জানান, তিনি গর্বের সঙ্গেই এই কালি মেখে রাখবেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন নেহা। অনুমতি ছাড়া সমাবেশের অভিযোগে যন্তর মন্তর থেকে নেহাসহ ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ, যদিও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে ছাত্র আন্দোলনের ‘পোস্টার গার্ল’ নেহা বোরা কে?

আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র ও তরুণদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরা। অনশন, জ্বালাময়ী স্লোগান, পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে পড়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট—সব মিলিয়ে তিনি এখন দেশটির ছাত্র আন্দোলনের এক অন্যতম ‘পোস্টার গার্ল’। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাস্থেটিকসের এই পিএইচডি শিক্ষার্থী একই সঙ্গে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি।

উত্তরাখণ্ডের খাটিমার বাসিন্দা নেহার পরিবার মূলত হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির সমর্থক। তাঁর বাবা একজন সেনাসদস্য এবং মা গৃহিণী। ফলে নেহার বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া তাঁর পরিবার সহজভাবে নেয়নি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও বি আর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পারফরম্যান্স স্টাডিজে স্নাতকোত্তর করা নেহা মূলত একজন থিয়েটারকর্মী। ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় থেকেই তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও পড়াশোনা সমান্তরালে এগিয়েছে।

২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা আন্দোলনে যন্তর মন্তরে টানা ২৩ দিন অনশন করেন নেহা। এ সময় তাঁর ওজন প্রায় সাড়ে সাত কেজি কমে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে গেলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি অনশন ভাঙেন। অনশন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর রসাত্মক পোস্টগুলো বেশ সাড়া ফেলে। একটি পোস্টে তিনি নিজের ক্ষুধার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ক্ষমতার ক্ষুধার তুলনা করেন। মেয়ের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে ভিন্নতা থাকলেও অনশনের খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের বেরেলি থেকে ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যন্তর মন্তরে ছুটে এসেছিলেন তাঁর মা।

গত ২৫ জুলাই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নেহা একটি নাচের ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘আমি যদি নাচতে না পারি, তাহলে সেটা আমার বিপ্লব নয়।’ তবে কেবল মন্ত্রীর পদত্যাগকেই তিনি চূড়ান্ত বিজয় মনে করেন না। রাজ্যসভার সদস্য ও আইনজীবী কপিল সিবালের ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘দিল সে’-তে অংশ নিয়ে নেহা বলেন, এটি কেবল কোনো ব্যক্তির পদত্যাগের বিষয় নয়, বরং ব্যবস্থার ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে লড়াই। এআইএসএর পক্ষ থেকে তিনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বিরুদ্ধেও প্রচার চালিয়েছেন। আগস্টে শুরু হওয়া তাঁদের ‘জেন-জি রাইজিং’ প্রচারণাকে অনেকেই ‘রাহুল গান্ধীর কায়দা’ বলে অভিহিত করেছেন।

আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়েছেন নেহা। গত ৭ আগস্ট ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে বিধানসভা অভিমুখে মিছিলের সময় এক ব্যক্তি তাঁর মুখে কালি ছুড়ে মারেন। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করলে তিনি জানান, জেএনইউর সাবেক শিক্ষার্থী উমর খালিদের পক্ষে কথা বলায় তিনি নেহার মুখে কালি দিয়েছেন। তবে নেহা জানান, তিনি গর্বের সঙ্গেই এই কালি মেখে রাখবেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন নেহা। অনুমতি ছাড়া সমাবেশের অভিযোগে যন্তর মন্তর থেকে নেহাসহ ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ, যদিও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo