ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবারও মোশাররফ করিমের সঙ্গে পর্দায় নীলাঞ্জনা নীলা আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস: বাল্যবিয়ে রোধে বিশেষ গুরুত্ব ২৫ কোটির বাজেটে ৩৩০ কোটি আয় করে রেকর্ড গড়ল ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’ ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের বাল্যবিবাহ রুখে দিল তানিয়া উৎপাদন খরচ ও দরপতনের চাপে ঈশ্বরদীতে শিম চাষ ৩৬ শতাংশ কমেছে ওষুধের দাম সাধারণের নাগালে রাখতে উৎপাদন ব্যয় কমানোর তাগিদ ইউজিসি চেয়ারম্যানের শিক্ষার মানোন্নয়নে ওবিই কারিকুলামের সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি: বাউবি উপাচার্য পুরস্কার উৎসর্গ করে রাফীকে মঞ্চে ডাকলেন তমা মির্জা জুয়া খেলার ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনায় বুড়িচং বিএনপি নেতা

যুক্তরাজ্যে ‘সমকামী’ সেজে আশ্রয় আবেদন, গ্রেপ্তার ৩ বাংলাদেশি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য ‘সমকামী’ সেজে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের অন্তত তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। লন্ডনের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীন অভিবাসন কর্মকর্তারা বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন, গয়না ও বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সন্দেহে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই চক্রটি মূলত বাংলাদেশি পুরুষদের আশ্রয় আবেদনে সহায়তা করত। আবেদনে দাবি করা হতো যে, আশ্রয়প্রার্থীরা সমকামী এবং নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। ভুয়া নথিপত্র তৈরির বিনিময়ে চক্রটি একেকজন আশ্রয়প্রার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার পাউন্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। এসব নথিপত্রে সাজানো ছবি, জাল কাগজপত্র এবং পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলভিত্তিক বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠন ‘আপনজন’-এর সমর্থনপত্র ব্যবহার করা হতো।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, বেশ কয়েক মাস ধরে তদন্তের পর এই চক্রের কার্যক্রম উদঘাটন করা হয়। তিনি বলেন, আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের সময় কর্মকর্তাদের কাছে একই ধরনের তথ্য ও নথিপত্র সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত শতাধিক আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এর মধ্যে বেশ কিছু ভুয়া আবেদন ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে গত এপ্রিলে উঠে আসে যে, কিছু আইনজীবী ও পরামর্শক অভিবাসীদের সমকামী সেজে আশ্রয় পেতে সহায়তা করছেন। প্রতিবেদনে তানিসা খান নামের এক পরামর্শকের রেকর্ড করা বক্তব্যে ‘পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ’ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে, যেখানে সমকামী ক্লাবে তোলা ছবির মতো প্রমাণাদি অন্তর্ভুক্ত থাকত।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই জালিয়াতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভান করে তারা প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে উপহাস করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ জব্দ করা হবে এবং যারা জালিয়াতি করে আবেদন করেছেন তাদের আবেদন বাতিল করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। আশ্রয় নিয়ে প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্যে ‘সমকামী’ সেজে আশ্রয় আবেদন, গ্রেপ্তার ৩ বাংলাদেশি

আপডেট সময় : ০৩:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য ‘সমকামী’ সেজে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের অন্তত তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। লন্ডনের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীন অভিবাসন কর্মকর্তারা বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন, গয়না ও বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সন্দেহে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই চক্রটি মূলত বাংলাদেশি পুরুষদের আশ্রয় আবেদনে সহায়তা করত। আবেদনে দাবি করা হতো যে, আশ্রয়প্রার্থীরা সমকামী এবং নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। ভুয়া নথিপত্র তৈরির বিনিময়ে চক্রটি একেকজন আশ্রয়প্রার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার পাউন্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। এসব নথিপত্রে সাজানো ছবি, জাল কাগজপত্র এবং পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলভিত্তিক বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠন ‘আপনজন’-এর সমর্থনপত্র ব্যবহার করা হতো।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, বেশ কয়েক মাস ধরে তদন্তের পর এই চক্রের কার্যক্রম উদঘাটন করা হয়। তিনি বলেন, আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের সময় কর্মকর্তাদের কাছে একই ধরনের তথ্য ও নথিপত্র সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত শতাধিক আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এর মধ্যে বেশ কিছু ভুয়া আবেদন ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে গত এপ্রিলে উঠে আসে যে, কিছু আইনজীবী ও পরামর্শক অভিবাসীদের সমকামী সেজে আশ্রয় পেতে সহায়তা করছেন। প্রতিবেদনে তানিসা খান নামের এক পরামর্শকের রেকর্ড করা বক্তব্যে ‘পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ’ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে, যেখানে সমকামী ক্লাবে তোলা ছবির মতো প্রমাণাদি অন্তর্ভুক্ত থাকত।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই জালিয়াতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভান করে তারা প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে উপহাস করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ জব্দ করা হবে এবং যারা জালিয়াতি করে আবেদন করেছেন তাদের আবেদন বাতিল করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। আশ্রয় নিয়ে প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo