ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেগুনবাগিচায় গ্রাফিতি মোছার চেষ্টায় আটক আ ন ম আয়াস সিলেট বিভাগীয় ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ানদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত সাত দিনে সংস্কার শেষে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হস্তান্তর করলেন প্রতিমন্ত্রী দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি, আটক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা প্রাইম ব্যাংকের প্রায়োরিটি গ্রাহকদের জন্য প্ল্যান মেডি ট্রিপের বিশেষ সুবিধা বিক্ষোভকারীদের মুক্তি না দিলে অনশনের হুঁশিয়ারি সোনম ওয়াংচুকের দিল্লিতে সিজেপি প্রধান দিপকে আটক, আন্দোলনের নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডে প্রাচীন মিশরীয় চিকিৎসা ও মস্তিষ্কের আঘাতের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কোটালীপাড়ায় পোস্টার লাগানোর সময় ধারালো ছুরিসহ যুবক আটক নিকাব নিয়ে শ্রেণিকক্ষে কোনো নির্দেশ দিইনি, ভিডিও বার্তায় দাবি শিক্ষকের

পুষ্টির উন্নয়নে সমন্বিত বিনিয়োগ জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পুষ্টি পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সমন্বিত বিনিয়োগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: পুষ্টি খাতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক একটি প্লেনারি অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে এ আহ্বান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের সপ্তম বৈশ্বিক সম্মেলনে ড. হায়দার পুষ্টি খাতের উন্নয়নে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, টেকসই অর্থায়ন এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একই ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে পর্যাপ্ত পরিসরে সমন্বিত পুষ্টিসেবা পৌঁছে দেওয়া অপরিহার্য। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, পুষ্টির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৪ শতাংশ শিশু এখনও খর্বকায়ত্ব বা স্টান্টিংয়ের শিকার। এছাড়া মাতৃঅপুষ্টির সমস্যাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ক্ষেত্রে বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে পুষ্টিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা দীর্ঘ সময় ধরে সচল থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত political কর্তৃত্ব, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়নের ঘাটতির কারণে বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ জন্য জাতীয় পুষ্টির অগ্রাধিকারগুলোকে সরাসরি সরকারের মূল পরিকল্পনা ও বাজেট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। ড. হায়দার আরও বলেন, পুষ্টি খাতে বড় সাফল্য পেতে হলে সুশাসন ও পরিচালনব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা জরুরি। কেবল নতুন কমিটি গঠন বা বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম না চালিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক তত্ত্বাবধান, দেশীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি, পুষ্টিঝুঁকির ভিত্তিতে ভৌগোলিক এলাকা নির্ধারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের যৌথ জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের এই প্লেনারি অধিবেশনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের নলেজ লিডারশিপ ম্যানেজার মুদুদুজি এমবুয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নিউট্রিশন, ডায়েটস অ্যান্ড হেলথ বিভাগের পরিচালক ডিয়ানা ওলনি। অধিবেশনে তানজানিয়া, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সেসের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

ড. হায়দার আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নবপরিকল্পিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পুষ্টিসেবা অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে একটি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

পুষ্টির উন্নয়নে সমন্বিত বিনিয়োগ জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ১২:২৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পুষ্টি পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সমন্বিত বিনিয়োগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: পুষ্টি খাতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক একটি প্লেনারি অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে এ আহ্বান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের সপ্তম বৈশ্বিক সম্মেলনে ড. হায়দার পুষ্টি খাতের উন্নয়নে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, টেকসই অর্থায়ন এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একই ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে পর্যাপ্ত পরিসরে সমন্বিত পুষ্টিসেবা পৌঁছে দেওয়া অপরিহার্য। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, পুষ্টির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৪ শতাংশ শিশু এখনও খর্বকায়ত্ব বা স্টান্টিংয়ের শিকার। এছাড়া মাতৃঅপুষ্টির সমস্যাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ক্ষেত্রে বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে পুষ্টিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা দীর্ঘ সময় ধরে সচল থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত political কর্তৃত্ব, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়নের ঘাটতির কারণে বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ জন্য জাতীয় পুষ্টির অগ্রাধিকারগুলোকে সরাসরি সরকারের মূল পরিকল্পনা ও বাজেট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। ড. হায়দার আরও বলেন, পুষ্টি খাতে বড় সাফল্য পেতে হলে সুশাসন ও পরিচালনব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা জরুরি। কেবল নতুন কমিটি গঠন বা বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম না চালিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক তত্ত্বাবধান, দেশীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি, পুষ্টিঝুঁকির ভিত্তিতে ভৌগোলিক এলাকা নির্ধারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের যৌথ জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের এই প্লেনারি অধিবেশনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের নলেজ লিডারশিপ ম্যানেজার মুদুদুজি এমবুয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নিউট্রিশন, ডায়েটস অ্যান্ড হেলথ বিভাগের পরিচালক ডিয়ানা ওলনি। অধিবেশনে তানজানিয়া, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সেসের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

ড. হায়দার আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নবপরিকল্পিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পুষ্টিসেবা অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে একটি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin