মেট্রোরেল প্রকল্পে বিপুল ব্যয়, সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার অভাব নিয়ে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৩:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নে একের পর এক মেট্রোরেল প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস, রেল, হাঁটা এবং সাইকেলসহ অন্যান্য পরিবহনমাধ্যমের সঙ্গে এর সমন্বয় হচ্ছে না বলে মনে করছেন পরিবহন ও নগর-পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত ‘মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা: আইপিডির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় তারা এ উদ্বেগের কথা জানান।
আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ২০০৫ সালের স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে (এসটিপি) একটি সমন্বিত ব্যবস্থার প্রস্তাব ছিল, যার মধ্যে বাসের মানোন্নয়ন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং, বিআরটি এবং পথচারীবান্ধব ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ২০ বছর পরও সেই পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মেট্রোরেলকে ঘিরে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে অথচ ঢাকার সঙ্গে আশপাশের এলাকার বিদ্যমান রেল যোগাযোগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া যে প্রকল্পগুলোর ব্যয় ৪০-৪৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে থাকার কথা ছিল, সেগুলোর ব্যয় এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা মেট্রোরেলকে প্রয়োজনীয় গণপরিবহনের পরিবর্তে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রকল্পে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, বড় বড় প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও ঢাকার মানুষের চলাচলের ভোগান্তি কমেনি। তিনি ঢাকাকেন্দ্রিক ব্যয়বহুল প্রকল্পের পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। পরিবহন পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মুনতাসির মামুন জানান, ঢাকার পরিবহন খাতে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের বড় অংশ মেট্রোকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে, অথচ মোট যাতায়াতের খুব সামান্য অংশই মেট্রোরেল বহন করছে। তিনি বলেন, কোথায় আগে বিনিয়োগ করা হবে—ইন্টারসেকশন ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাস নেটওয়ার্ক নাকি নতুন মেট্রোরেল, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
আইপিডির গবেষক ফরহাদুর রেজা বলেন, একটি শহরের কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা কোনো একটি মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা সম্ভব নয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি—এই তিন পথে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মোট ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।
এ প্রেক্ষাপটে আইপিডি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মেট্রোরেল প্রকল্পে আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করা, দেশীয় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ব্যয় যাচাই করা। একই সঙ্গে প্রকল্পের পুরো জীবনচক্রে সম্ভাব্য ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ, একটি ওপেন ডেটা ড্যাশবোর্ড চালু এবং বারবার ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
একই সঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে।আদিল মুহাম্মদ খানের ভাষ্য, যেসব প্রকল্পের ব্যয় ৪০–৪৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে থাকার কথা ছিল, সেগুলোর কোনো কোনোটি এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া হচ্ছে।
১০টি মেট্রোরেল লাইন হলেও মোট যাতায়াতের একটি সীমিত অংশ এতে স্থানান্তর করা যাবে।


























