‘১১৫০ টাকার কাজে ৭০ হাজার কেন’: ভিডিও ফাঁসের পর রাঙ্গাবালীর তহশিলদারকে শোকজ
- আপডেট সময় : ১২:১২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মোহাম্মদ আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে নামজারির সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চারটি পৃথক দলিলের বিপরীতে নামজারি বা নতুন খতিয়ান খোলার জন্য এক সেবাগ্রহীতার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করছেন তহশিলদার আবদুস সোবাহান। এ সময় সেবাগ্রহীতা আপত্তি জানিয়ে বলেন, “১ হাজার ১৫০ টাকার কাজে ৭০ হাজার টাকা লাগবে কেন? এত টাকা দিতে হলে তো জমি বিক্রি করতে হবে।” এর জবাবে তহশিলদার সার্ভেয়ার ও কানুনগোসহ মোট আটটি টেবিলের খরচের হিসাব তুলে ধরেন। পরবর্তীতে দুটি দলিলের বিপরীতে একটি খতিয়ান খোলার জন্য তাঁদের মধ্যে ২০ হাজার টাকার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নেন আবদুস সোবাহান। বাকি ১০ হাজার টাকা বিকাশে দিতে চাওয়া হলে তহশিলদার তাতে আপত্তি জানিয়ে সরাসরি হাতে হাতে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতার নাম মহিউদ্দিন খন্দকার (৪২)। তিনি চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা। মহিউদ্দিন জানান, চারটি আলাদা দলিলের জমি একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহশিলদার আবদুস সোবাহানের কাছে গিয়েছিলেন। তখন সরকারি নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকার বদলে তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। দর-কষাকষির পর ২০ হাজার টাকায় চুক্তি হলেও তহশিলদার তাঁকে কয়েক মাস হয়রানি করেন। শেষ পর্যন্ত চারটি দলিলের মধ্যে দুটি বাদ দিয়ে বাকি দুটির বিপরীতে একটি খতিয়ান করে দেওয়া হয়। এছাড়া সরকারি রাজস্বের ১ হাজার ১৫০ টাকা পরিশোধ করার জন্য তাঁকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়।
ভূমি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ উপায়ে জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি খতিয়ানে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত বা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াকে নামজারি বা মিউটেশন বলা হয়। এর জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা।
তবে ঘুষ নেওয়ার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তহশিলদার মোহাম্মদ আবদুস সোবাহান। তিনি দাবি করেন, মহিউদ্দিন খন্দকার নামের ওই ব্যক্তি তাঁর কাছে যাননি এবং জমি-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও তাঁর কাছে জমা দেননি।
রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পর অভিযুক্ত তহশিলদারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।


























