গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় কমছে লোডশেডিং, শিল্পে অগ্রাধিকার
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় পর দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত সোমবার রাত থেকে এই সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে, যা গত মঙ্গলবার আরও কিছুটা বেড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহ বাড়ার পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিল্প খাতকে এবং বাড়তি গ্যাসের সিংহভাগই সেখানে দেওয়া হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এলএনজি কার্গো আসতে দেরি হওয়ায় এতদিন সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। তবে বর্তমানে এলএনজি কার্গো নিয়মিত আসতে শুরু করেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১০টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৯টি কার্গো নিশ্চিত করা গেছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভরের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে পাঁচটি কার্গো কেনা হয়েছে। ইতিমধ্যে আরামকো, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কো সরবরাহ সম্পন্ন করেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের কার্গো আসার কথা রয়েছে। এছাড়া অক্টোবরের জন্য ১১টি কার্গোর মধ্যে ৮টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাকি ৩টির জন্য গতকাল দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সাধারণত ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব। গত সোমবার রাত ১০টায় এলএনজি থেকে ৯৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও গত মঙ্গলবার রাত আটটায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০১ কোটি ঘনফুটে। ফলে মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৬৩ কোটি ঘনফুটে, যার মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই মহেশখালীর টার্মিনালে দুর্ঘটনার আগে দৈনিক ২৬৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, যার মধ্যে এলএনজি ছিল ৯৯ কোটি ঘনফুট। তবে বর্তমানে এলএনজি সরবরাহ বাড়লেও দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন ৪ কোটি ঘনফুট কমেছে।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও শিল্পকারখানাগুলো এখনো পুরোপুরি কাঙ্ক্ষিত চাপ পাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমতিয়াজ রাজীব জানান, কারখানায় ১০ পিএসআই চাপ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ৪ পিএসআই, যা আগের চেয়ে সামান্য বেশি। নারায়ণগঞ্জ ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেনও জানান, কারখানা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস চাপ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ার ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। গত মাসে যেখানে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছিল, সেখানে গত সোমবার দিবাগত রাত একটায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি এবং গত মঙ্গলবার দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। কয়লার সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে না পারায় এবং ফার্নেস তেলের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় তেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। তবে ২০ সেপ্টেম্বরের পর তেলভিত্তিক উৎপাদন বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বুধবার রাতে আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর রোববার দুপুরে তা আবার চালু হয় এবং বর্তমানে সেখান থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আসছে। অন্যদিকে, গত রোববার কারিগরি কারণে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গতকাল সেটি ৬১০ মেগাওয়াট উৎপাদন করেছে এবং পুরো উৎপাদনে ফিরতে আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে। পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় সেখানে ৫৭০ মেগাওয়াট উৎপাদিত হচ্ছে, তবে পর্যাপ্ত কয়লা রয়েছে। একই জেলার অন্য একটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বাড়ায় গতকাল ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।
প্রতিটি কেন্দ্র ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় নির্মিত হয়।

























