মেধার কমতি নেই, সংকট শুধু গবেষণার সুযোগের: মাহদী আমিন
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে মেধার কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণার সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দেশে গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীই বিদেশে গিয়ে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন এবং মানসম্মত গবেষণা ও প্রকাশনা করছেন। ফলে সমস্যাটি মেধার নয়, বরং গবেষণার সুযোগ ও সহযোগিতার অভাব।
'স্টেম ফর আ ফিউচার-রেডি বাংলাদেশ: বিল্ডিং দ্য ব্যাকবোন অব দ্য ইনোভেটিভ ইকোনমি' শীর্ষক প্লেনারি আলোচনার 'ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন' পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের বেহাল চিত্র তুলে ধরে মাহদী আমিন প্রশ্ন তোলেন, এত মেধাবী মানুষ থাকার পরেও সীমাবদ্ধতা না থাকলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিংয়ের এই অবস্থা কেন? এর কারণ হিসেবে তিনি দেশে 'রিসার্চ কালচার' বা গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে না ওঠাকে দায়ী করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দেশে অনেক ভালো শিক্ষক ও শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে গবেষণার মানসিকতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিত করা যায়নি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভালো ফলাফল করার পর বিদেশে গিয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি করছেন। সেখানে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করে মানসম্মত জার্নালে তা প্রকাশও করছেন, যা দেশে থাকার সময় তিনি করতে পারেননি।
এই গবেষণার ঘাটতি দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের (ইন্ডাস্ট্রি) মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন মাহদী আমিন। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পড়াশোনার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে প্রতিবছর সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানা আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো তহবিলের প্রয়োজন হলে অ্যালামনাইদের কাছ থেকে অনুদান চাওয়া হয়। বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের বড় উৎস হলো সাবেক শিক্ষার্থীদের দেওয়া অনুদান ও এনডাওমেন্ট, বিভিন্ন গবেষণার গ্র্যান্ট এবং কোম্পানিগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে গবেষণা ও উন্নয়নে সহযোগিতা নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে সফল উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী সাবেক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশে শিল্প খাতের বিভিন্ন স্তরে গবেষণার সংস্কৃতির বড় ঘাটতি রয়েছে। প্রযুক্তিগত পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মূলত ভোক্তা, কোনো সৃষ্টিকারী নয়। এ কারণে দেশে গবেষণানির্ভর প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গবেষণার সংস্কৃতি না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার চাহিদাও তৈরি হবে না, যা গবেষণার 'ডিমান্ড সাইড'। অন্যদিকে 'সাপ্লাই সাইড' হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণার উপযোগী করার কাজও যথেষ্ট হয়নি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় জার্নালে প্রবেশাধিকার নেই, কোথাও নেই পর্যাপ্ত ইন্টারনেট, ল্যাবরেটরি বা অবকাঠামোগত সুবিধা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক গবেষণা ও উন্নয়ন, ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর এবং জার্নালে গবেষণা প্রকাশের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

























