বগুড়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার
- আপডেট সময় : ১০:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের রজাকপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে ১৪ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোরী বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের কুশলিহার গ্রামের বাসিন্দা ওই কিশোরী কয়েক দিন আগে তার নানির সঙ্গে রজাকপুর গ্রামে বেড়াতে আসে। ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলার সময় স্থানীয় কয়েকজন তরুণ তাকে ফুসলিয়ে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে একাধিক ব্যক্তি কিশোরীটির ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে অসুস্থ অবস্থায় কোনোভাবে সে ফিরে এসে তার নানিকে বিষয়টি জানায়।
ভুক্তভোগীর চাচা আব্দুল খালেক জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কিশোরীকে প্রথমে কাহালুর কুশলিহার গ্রামে স্বজনদের কাছে পাঠানো হয় এবং পরে দ্রুত চিকিৎসার জন্য শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় দ্রুত মামলা দায়ের করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কয়েকজন সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহল অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পাইকড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ঘটু ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত। অন্যদিকে, বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।




























