ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ

আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলায় বিক্ষুব্ধ হয়ে অংশ নিই: সাক্ষী জাকির হোসেন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী জাকির হোসেন তাঁর অবশিষ্ট জবানবন্দি দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার মুখে তিনি জানান, তাঁর বাবা এবং বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ফলে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত সংক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা জাকির হোসেনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়।

জবানবন্দিতে জাকির হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তাঁর বড় ছেলে রেজাউল করিম নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন করার সময় পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন ২০ জুলাই থেকে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি শুরু করে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁর আজিমপুরের বাসায়ও তল্লাশি চালানো হয়। ২৪ জুলাই পর্যন্ত এই নির্যাতন ও তল্লাশি অব্যাহত থাকায় তিনি পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে যান। তাঁর গ্রামের বাড়িতেও পুলিশ ও আওয়ামী লীগ হামলা চালায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২৬ জুলাই ঢাকায় ফিরে তিনি ২ আগস্ট পর্যন্ত আহত আন্দোলনকারীদের খাদ্য, চিকিৎসা ও পোশাক দিয়ে সহায়তা করেন। ২ আগস্ট রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাঁর আজিমপুর বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি ছাদ দিয়ে পাশের ভবনে লাফিয়ে পালিয়ে যান। ৩ আগস্ট ভোরে চট্টগ্রাম ফিরে গেলেও রাতে সাতকানিয়ার বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর ভয়ংকর হামলা চালায়।

জাকির হোসেন জানান, ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে বন্ধু খলিলুর রহমানের কাছ থেকে ফোন পান যে বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁদের ঘিরে রেখেছে। খলিলুর প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানালে তিনি বিকেলে বাড্ডায় গিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিপরীতে গলির ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন। খলিলুরের শরীরে তখন কয়েক শ স্প্লিন্টারের ক্ষত ছিল।

সাক্ষী জানান, গণমাধ্যম থেকে তিনি জেনেছেন শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং ১৪-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের পরামর্শে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলি চালানো হয়েছিল। তিনি ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামকে শেখ হাসিনার অন্যতম পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। উল্লেখ্য, মামলার আসামি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলায় বিক্ষুব্ধ হয়ে অংশ নিই: সাক্ষী জাকির হোসেন

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী জাকির হোসেন তাঁর অবশিষ্ট জবানবন্দি দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার মুখে তিনি জানান, তাঁর বাবা এবং বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ফলে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত সংক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা জাকির হোসেনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়।

জবানবন্দিতে জাকির হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তাঁর বড় ছেলে রেজাউল করিম নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন করার সময় পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন ২০ জুলাই থেকে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি শুরু করে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁর আজিমপুরের বাসায়ও তল্লাশি চালানো হয়। ২৪ জুলাই পর্যন্ত এই নির্যাতন ও তল্লাশি অব্যাহত থাকায় তিনি পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে যান। তাঁর গ্রামের বাড়িতেও পুলিশ ও আওয়ামী লীগ হামলা চালায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২৬ জুলাই ঢাকায় ফিরে তিনি ২ আগস্ট পর্যন্ত আহত আন্দোলনকারীদের খাদ্য, চিকিৎসা ও পোশাক দিয়ে সহায়তা করেন। ২ আগস্ট রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাঁর আজিমপুর বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি ছাদ দিয়ে পাশের ভবনে লাফিয়ে পালিয়ে যান। ৩ আগস্ট ভোরে চট্টগ্রাম ফিরে গেলেও রাতে সাতকানিয়ার বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর ভয়ংকর হামলা চালায়।

জাকির হোসেন জানান, ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে বন্ধু খলিলুর রহমানের কাছ থেকে ফোন পান যে বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁদের ঘিরে রেখেছে। খলিলুর প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানালে তিনি বিকেলে বাড্ডায় গিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিপরীতে গলির ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন। খলিলুরের শরীরে তখন কয়েক শ স্প্লিন্টারের ক্ষত ছিল।

সাক্ষী জানান, গণমাধ্যম থেকে তিনি জেনেছেন শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং ১৪-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের পরামর্শে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলি চালানো হয়েছিল। তিনি ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামকে শেখ হাসিনার অন্যতম পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। উল্লেখ্য, মামলার আসামি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo