ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোববার ফের যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘোষণা ককরোচ পার্টির দীর্ঘ বিরতি ভেঙে নতুন গানে ফিরলেন কুসুম শিকদার সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী দিল্লি পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন নেহা বোরা মোজাম্বিক থেকে ফেরার পথে বিমানে প্রাণ হারালেন বাঁশখালীর প্রবাসী সাজেক সড়কে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দশমিনায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে আট জেলের কারাদণ্ড জনগণের কাছে স্থানীয় সরকার ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান; সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব রোববার সন্ধ্যায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ

মাদারগঞ্জের ১২৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, শিক্ষা অফিসেও সংকট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ০৯

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া শিক্ষা অফিসেও অনুমোদিত পদের অর্ধেকই খালি পড়ে রয়েছে। এই জনবল সংকটের কারণে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান, অন্যদিকে ভেঙে পড়ছে প্রশাসনিক তদারকি ব্যবস্থা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অবস্থিত ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে বিশাল এই শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার কোয়ালিকান্দি, ঝাড়কাটা, চরনগর, পূর্ব চরপাকেরদহ, চাঁদপুর সন্ধ্যাজান, বালিজুড়ী আরএ, চর নাংলা, পশ্চিম জটিয়ারপাড়া, চরপাড়া ইসলামিয়া ও জোড়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১২৮টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ২৭টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে এবং ১০১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকেরও ৭৫টি পদ শূন্য রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের কারণে সহকারী শিক্ষকদের বাড়তি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তাদের ওপর কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, শিক্ষার্থীরাও তেমনি কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় সহকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্ত বা নেতৃত্ব মানতে চান না, আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করেন। চরগুজামানিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ঘাটতির কারণে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত পদোন্নতি ও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

বিদ্যালয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তোফায়েল আহম্মেদ, এনামুল হক ও নাজিরুল ইসলাম নামের কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। কিছু শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই শৃঙ্খলার অভাবের কারণে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও জনবল সংকট তীব্র। সেখানে অনুমোদিত ১২টি পদের মধ্যে ৬টিই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন—যার মধ্যে রয়েছেন একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, তিনজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক। বিপরীতে, তিনজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন হিসাব সহকারী, একজন অফিস সহকারী ও একজন অফিস সহায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। ফলে সীমিত এই জনবল দিয়ে বিশাল সংখ্যক বিদ্যালয়ের তদারকি ও দাপ্তরিক কাজ করতে কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান, যিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে এখানে যোগ দিয়েছেন, জানান যে অবসর, বদলি, মৃত্যু এবং মামলা-সংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য হয়েছে। তিনি শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। শিক্ষা অফিসের শূন্য পদের বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার মান বজায় রাখতে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা অফিসে কর্মী দেওয়া হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদারগঞ্জের ১২৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, শিক্ষা অফিসেও সংকট

আপডেট সময় : ০৮:২০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ০৯

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া শিক্ষা অফিসেও অনুমোদিত পদের অর্ধেকই খালি পড়ে রয়েছে। এই জনবল সংকটের কারণে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান, অন্যদিকে ভেঙে পড়ছে প্রশাসনিক তদারকি ব্যবস্থা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অবস্থিত ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে বিশাল এই শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার কোয়ালিকান্দি, ঝাড়কাটা, চরনগর, পূর্ব চরপাকেরদহ, চাঁদপুর সন্ধ্যাজান, বালিজুড়ী আরএ, চর নাংলা, পশ্চিম জটিয়ারপাড়া, চরপাড়া ইসলামিয়া ও জোড়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১২৮টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ২৭টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে এবং ১০১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকেরও ৭৫টি পদ শূন্য রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের কারণে সহকারী শিক্ষকদের বাড়তি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তাদের ওপর কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, শিক্ষার্থীরাও তেমনি কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় সহকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্ত বা নেতৃত্ব মানতে চান না, আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করেন। চরগুজামানিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ঘাটতির কারণে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত পদোন্নতি ও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

বিদ্যালয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তোফায়েল আহম্মেদ, এনামুল হক ও নাজিরুল ইসলাম নামের কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। কিছু শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই শৃঙ্খলার অভাবের কারণে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও জনবল সংকট তীব্র। সেখানে অনুমোদিত ১২টি পদের মধ্যে ৬টিই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন—যার মধ্যে রয়েছেন একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, তিনজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক। বিপরীতে, তিনজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন হিসাব সহকারী, একজন অফিস সহকারী ও একজন অফিস সহায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। ফলে সীমিত এই জনবল দিয়ে বিশাল সংখ্যক বিদ্যালয়ের তদারকি ও দাপ্তরিক কাজ করতে কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান, যিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে এখানে যোগ দিয়েছেন, জানান যে অবসর, বদলি, মৃত্যু এবং মামলা-সংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য হয়েছে। তিনি শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। শিক্ষা অফিসের শূন্য পদের বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার মান বজায় রাখতে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা অফিসে কর্মী দেওয়া হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh