সিঙ্গাপুরে সন্তান নিলে ৬৮ লাখ টাকা, তবুও দম্পতিদের অনীহা
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সিঙ্গাপুরে জন্মহারের ঐতিহাসিক পতন ঘটেছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দম্পতিদের সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করতে সিঙ্গাপুর সরকার ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর জন্য প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৮ লাখ টাকার সমান, সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুল এই আর্থিক প্রণোদনা সত্ত্বেও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপ এবং ক্যারিয়ারের জটিলতার কারণে বহু তরুণ দম্পতি পরিবার বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিশুর জন্মের পরপরই ১০ হাজার ডলারের একটি বিশেষ অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়াও, চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার ডলার এবং শিক্ষার খরচের জন্য আরও ৫ হাজার ডলার করে আলাদা সহায়তা মিলবে। এক থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি বছর ২ হাজার ডলার শিশু সহায়তা, প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের ফি মাসে ১৫০ ডলারে নামিয়ে আনা এবং বেতনসহ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ওং জোর দিয়ে বলেন, “একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শক্তিশালী পারিবারিক কাঠামোর ওপর।”
বর্তমানে সিঙ্গাপুরে নারীপ্রতি সন্তান জন্মদানের হার বা ফার্টিলিটি রেট নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৭-তে, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন হারগুলোর মধ্যে অন্যতম। জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ২ দশমিক ১ হারের চেয়ে এটি অনেক কম। চলতি বছরই সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশের বেশি ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছাবে, যাকে জাতিসংঘ ‘সুপার-এজড’ বা অতি-বয়স্ক সমাজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে প্রবীণদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
জনমত জরিপ সংস্থা ইউগভ পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কোনো সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, কেবল সরকারি আর্থিক সহায়তা দিয়ে সন্তান লালন-পালনের বিপুল সময় ও সামাজিক প্রতিযোগিতার চাপ সামলানো সম্ভব নয়। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা, প্রাইভেট টিউশনির সংস্কৃতি এবং কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেকে নিজেদের স্বাধীন জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সন্তান নেওয়া থেকে দূরে থাকছেন।




























