ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে, এবার ৪ দিনের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী তুরস্কের শানলিউরফায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের মিছিল ঘিরে দেশজুড়ে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি ৫১তম বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

মাধবপুরে জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল অপসারণে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত মে মাসে সংস্কারকাজের সময় এই ম্যুরালটি সরিয়ে ফেলা হলেও, কার নির্দেশে বা কার দায়িত্বে এই কাজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ১০ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্বরে জাতীয় চার নেতা—তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানের ছবি সংবলিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিনে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী এই চার নেতার স্মৃতি সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফলে তাদের স্মৃতিবিজড়িত ম্যুরালটি অপসারণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় ম্যুরালটি স্থাপন করা হয়েছিল। এখন সরকারের নির্দেশে সেটি সরানো হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। আমরা এ ধরনের কাজকে সমর্থন করি না।”

ম্যুরালটি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম জানান, এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভালো বলতে পারবেন; তিনি নিজে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানেন না। অন্যদিকে, বর্তমান ইউএনও মো. মেহেদী হাসান বলেন, “মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে ওই ম্যুরাল অপসারণ করা হয়নি। নতুন ম্যুরাল তৈরির ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”

এদিকে, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে কি না। একই সঙ্গে তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সম্মান এবং লালন করে কি না, তাও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

মাধবপুরে জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল অপসারণে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৯:৫০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত মে মাসে সংস্কারকাজের সময় এই ম্যুরালটি সরিয়ে ফেলা হলেও, কার নির্দেশে বা কার দায়িত্বে এই কাজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ১০ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্বরে জাতীয় চার নেতা—তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানের ছবি সংবলিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিনে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী এই চার নেতার স্মৃতি সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফলে তাদের স্মৃতিবিজড়িত ম্যুরালটি অপসারণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় ম্যুরালটি স্থাপন করা হয়েছিল। এখন সরকারের নির্দেশে সেটি সরানো হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। আমরা এ ধরনের কাজকে সমর্থন করি না।”

ম্যুরালটি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম জানান, এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভালো বলতে পারবেন; তিনি নিজে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানেন না। অন্যদিকে, বর্তমান ইউএনও মো. মেহেদী হাসান বলেন, “মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে ওই ম্যুরাল অপসারণ করা হয়নি। নতুন ম্যুরাল তৈরির ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”

এদিকে, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে কি না। একই সঙ্গে তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সম্মান এবং লালন করে কি না, তাও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin