ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৭ সালের সভাপতি হচ্ছে পাকিস্তান অস্তিত্বের সংকটে সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক বারুহাস ইমামবাড়ি ও তিন গম্বুজ মসজিদ গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ারসহ আটক ১ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ৫১৯ মাদারীপুরের শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান নিহত রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ২০ হামলায় নিহত ১৭ যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ শিশু ও শিক্ষক ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি ৩.১%, এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২১.৩ শতাংশ

‘ঘুষ.সাইট’–এ দুই দিনে ৮০৪ অভিযোগ, ঘুষের দাবি ১৩ কোটি ৬৫ লাখ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কোথায় কী ধরনের হয়রানি ও ঘুষের মুখোমুখি হচ্ছেন, তা তুলে ধরতে চালু হয়েছে নতুন ওয়েবসাইট ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site)। গত ২১ আগস্ট যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মে প্রথম দুই দিনেই জমা পড়েছে ৮০৪টি অভিযোগ। এসব অভিযোগে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ নামের দুই বন্ধু বিদেশের একটি ওয়েবসাইটের আদলে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশে এই উদ্যোগটি চালু করেছেন। বিচ্ছিন্নভাবে থাকা ঘুষের অভিজ্ঞতাগুলোকে এক জায়গায় এনে কোন সরকারি দপ্তরে কেমন ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য। তবে উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন, এই ওয়েবসাইটে আসা তথ্যগুলোকে তাঁরা যাচাই করা অভিযোগ বা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাবি করছেন না।

এই সাইটে অভিযোগ জানাতে ব্যবহারকারীকে কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না। দুই মিনিটেরও কম সময়ে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল—এই পাঁচ ধরনের তথ্য দিয়ে অভিযোগ করা যায়। তবে সুরক্ষার স্বার্থে কোনো ব্যক্তির নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ নেই। অভিযোগ জমা পড়ার পর সরাসরি প্রকাশ করা হয় না; মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, আক্রমণাত্মক বা অস্পষ্ট বিবরণ বাদ দিয়ে তা প্রকাশ করা হয়।

প্রথম দুই দিনে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি এসেছে ঢাকা থেকে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৭, রাজশাহীতে ৪৪, খুলনায় ৪৩, সিলেটে ৩৮, রংপুরে ৩৭, ময়মনসিংহে ৩০ এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা ঘুষ দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সাইটটির অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই না করা। এ কারণে প্রতিটি রিপোর্টের সঙ্গে ‘আরভেরিফায়েড’ (unverified) লেখা থাকে। উদ্যোক্তারা জানান, এটি কোনো তদন্ত সংস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিকল্প নয়, বরং মানুষের অভিজ্ঞতা প্রকাশের একটি উন্মুক্ত রেকর্ড মাত্র। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এই সাইটের সঙ্গে কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নেই, তবে এখানে স্বেচ্ছায় অনুদান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

উদ্যোগটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবির জানান, তাঁদের কাছে এই ওয়েবসাইটের সাফল্য শুধু ভিজিটর বা ট্রাফিকের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। বরং কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নেওয়ার আগে অন্যদের অভিজ্ঞতা দেখে যদি সচেতন হতে পারেন এবং অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, তবেই এই উদ্যোগ সফল হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ঘুষ.সাইট’–এ দুই দিনে ৮০৪ অভিযোগ, ঘুষের দাবি ১৩ কোটি ৬৫ লাখ

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কোথায় কী ধরনের হয়রানি ও ঘুষের মুখোমুখি হচ্ছেন, তা তুলে ধরতে চালু হয়েছে নতুন ওয়েবসাইট ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site)। গত ২১ আগস্ট যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মে প্রথম দুই দিনেই জমা পড়েছে ৮০৪টি অভিযোগ। এসব অভিযোগে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ নামের দুই বন্ধু বিদেশের একটি ওয়েবসাইটের আদলে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশে এই উদ্যোগটি চালু করেছেন। বিচ্ছিন্নভাবে থাকা ঘুষের অভিজ্ঞতাগুলোকে এক জায়গায় এনে কোন সরকারি দপ্তরে কেমন ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য। তবে উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন, এই ওয়েবসাইটে আসা তথ্যগুলোকে তাঁরা যাচাই করা অভিযোগ বা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাবি করছেন না।

এই সাইটে অভিযোগ জানাতে ব্যবহারকারীকে কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না। দুই মিনিটেরও কম সময়ে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল—এই পাঁচ ধরনের তথ্য দিয়ে অভিযোগ করা যায়। তবে সুরক্ষার স্বার্থে কোনো ব্যক্তির নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ নেই। অভিযোগ জমা পড়ার পর সরাসরি প্রকাশ করা হয় না; মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, আক্রমণাত্মক বা অস্পষ্ট বিবরণ বাদ দিয়ে তা প্রকাশ করা হয়।

প্রথম দুই দিনে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি এসেছে ঢাকা থেকে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৭, রাজশাহীতে ৪৪, খুলনায় ৪৩, সিলেটে ৩৮, রংপুরে ৩৭, ময়মনসিংহে ৩০ এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা ঘুষ দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সাইটটির অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই না করা। এ কারণে প্রতিটি রিপোর্টের সঙ্গে ‘আরভেরিফায়েড’ (unverified) লেখা থাকে। উদ্যোক্তারা জানান, এটি কোনো তদন্ত সংস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিকল্প নয়, বরং মানুষের অভিজ্ঞতা প্রকাশের একটি উন্মুক্ত রেকর্ড মাত্র। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এই সাইটের সঙ্গে কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নেই, তবে এখানে স্বেচ্ছায় অনুদান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

উদ্যোগটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবির জানান, তাঁদের কাছে এই ওয়েবসাইটের সাফল্য শুধু ভিজিটর বা ট্রাফিকের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। বরং কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নেওয়ার আগে অন্যদের অভিজ্ঞতা দেখে যদি সচেতন হতে পারেন এবং অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, তবেই এই উদ্যোগ সফল হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo