ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে প্রবাসী বাঙালির জমজমাট দুর্গোৎসব ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের অগ্রবর্তী দল বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৪৫তম বিসিএস গেজেট থেকে বাদ পড়াদের শাহবাগে আত্মাহুতির হুমকি ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে চতুর্থ অর্থনীতি হচ্ছে ভারত নেত্রকোনায় দোকানে বসে থাকা সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে: এসআরবি ডিজি যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের অনীহাই বড় বাধা: ক্রেমলিন

জনতা ব্যাংকের সংকট কাটাতে রূপরেখা তৈরির কঠোর নির্দেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আর্থিক সংকট ও বিভিন্ন অনিয়মে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসিকে ঘুরে দাঁড়াতে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে বৈঠকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয় যে, জনতা ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি বা এনপিএল হিসেবে চিহ্নিত, যা পুরো ব্যাংক খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ব্যাংকটির মূলধন ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল এবং নেতিবাচক নিট ইন্টারেস্ট মার্জিন (এনআইএম) নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় শ্রেণিকৃত অ্যাকাউন্টগুলোর দ্রুত সুরাহা করা, খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং নতুন বড় ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা। পাশাপাশি এসএমই, কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতে গুণগত ঋণ বিতরণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কালচার আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং ঝুঁকি এড়াতে কঠোর সতর্কতা এবং ওভারডিউ এক্সপোর্ট বিলের বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। দুবাই বা ইউএই অপারেশন টিকিয়ে রাখা অথবা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বন্ধ করার বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পর্ষদকে। ব্যাংকটিকে উচ্চ ব্যয়ের আমানতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থিতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানত বাড়ানোর পাশাপাশি একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যমেয়াদি মূলধন পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্যানেল আইনজীবীদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে মূল্যায়ন এবং আটকে থাকা মামলাগুলোর আইনি অগ্রগতি তদারকির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে দ্রুততম সময়ে ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রস্তুত ও বিতরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরি করতে বলা হয়েছে, যেখানে কাজের ধরন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, সময়সীমা এবং ফলাফল স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। জনতা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান এম ফজলুর রহমান জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার আলোকে তারা কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং এর মাধ্যমে ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

জনতা ব্যাংকের সংকট কাটাতে রূপরেখা তৈরির কঠোর নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

আর্থিক সংকট ও বিভিন্ন অনিয়মে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসিকে ঘুরে দাঁড়াতে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে বৈঠকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয় যে, জনতা ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি বা এনপিএল হিসেবে চিহ্নিত, যা পুরো ব্যাংক খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ব্যাংকটির মূলধন ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল এবং নেতিবাচক নিট ইন্টারেস্ট মার্জিন (এনআইএম) নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় শ্রেণিকৃত অ্যাকাউন্টগুলোর দ্রুত সুরাহা করা, খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং নতুন বড় ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা। পাশাপাশি এসএমই, কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতে গুণগত ঋণ বিতরণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কালচার আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং ঝুঁকি এড়াতে কঠোর সতর্কতা এবং ওভারডিউ এক্সপোর্ট বিলের বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। দুবাই বা ইউএই অপারেশন টিকিয়ে রাখা অথবা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বন্ধ করার বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পর্ষদকে। ব্যাংকটিকে উচ্চ ব্যয়ের আমানতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থিতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানত বাড়ানোর পাশাপাশি একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যমেয়াদি মূলধন পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্যানেল আইনজীবীদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে মূল্যায়ন এবং আটকে থাকা মামলাগুলোর আইনি অগ্রগতি তদারকির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে দ্রুততম সময়ে ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রস্তুত ও বিতরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরি করতে বলা হয়েছে, যেখানে কাজের ধরন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, সময়সীমা এবং ফলাফল স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। জনতা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান এম ফজলুর রহমান জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার আলোকে তারা কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং এর মাধ্যমে ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh