বিয়ের সাজে মন্দিরে ৪০ বর, সারাদিন অপেক্ষার পর জানা গেল বড় প্রতারণা
- আপডেট সময় : ০৭:১৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের সাজে শেরওয়ানি ও কুর্তা পরে সকাল থেকেই মন্দিরে অপেক্ষা করছিলেন প্রায় ৪০ জন বর। সঙ্গে ছিলেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে সন্ধ্যা নামলেও কোনো কনের দেখা মেলেনি। শেষমেশ জানা গেল এক চাঞ্চল্যকর সত্য—গণবিয়ের নামে এক অভিনব প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন তারা। ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস এলাকায় সম্প্রতি এই ঘটনাটি ঘটেছে।
ভুক্তভোগীদের একজন অভিষেক ভার্মা। তার বাবা-মা ছেলের বিয়ের জন্য মরিয়া হয়ে পাত্রী খুঁজছিলেন। এমন সময় পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামের এক ব্যক্তি নিজেকে ঘটক পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, একটি অ্যালবাম থেকে এতিম পাত্রী পছন্দ করলেই বিয়ে সম্পন্ন হবে। তবে গণবিয়েতে অংশ নিতে ফি হিসেবে প্রায় ২০০ ডলার (প্রায় ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার রুপি) দিতে হবে। ঘটকের কথায় বিশ্বাস করে গত মে মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত দিনে সকাল ৮টায় বিয়ের পোশাক পরে দেওয়াস শহরের একটি মন্দিরে হাজির হন অভিষেকসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৪০ জন বর। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষার পরও কনেরা না আসায় ক্ষুব্ধ বর ও তাদের স্বজনরা বুঝতে পারেন যে তারা বড় ধরনের জاليةতির শিকার হয়েছেন।
পরবর্তীতে অভিষেক খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ঘটকের দেখানো পাত্রীদের ছবিগুলো আসলে কোনো এতিম মেয়ের নয়। ওই নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার, যার লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামে। জুলাই মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ জানায়, এই প্রতারণা চক্রের মূল হোতা ৪৫ বছর বয়সী দিনেশ বৈরাগী, তার ভাই ৪০ বছর বয়সী মুকেশ বৈরাগী এবং তাদের চার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে কথিত ওই ঘটককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে জানান, প্রতারকেরা মূলত গ্রামীণ এলাকার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের লক্ষ্য করে এই ফাঁদ পেতেছিল। কারণ এসব এলাকায় পুরুষদের জন্য পাত্রী খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। লজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতে আসেননি বলেও জানান তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, বৈরাগী পরিবারটি গ্রামে নিজেদের পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি বরের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এভাবে তারা প্রায় ৪ হাজার ডলার (৩ লাখ রুপির বেশি) আয় করেছে, যা গ্রামীণ পরিবারগুলোর জন্য অনেক বড় অংক হলেও স্বাভাবিক বিয়ের খরচের তুলনায় বেশ কম ছিল।
ভারতে বিয়ের বাজারে নানা ধরনের জاليةতির ঘটনা ঘটলেও ভুয়া গণবিয়ের এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে জানিয়েছে পুলিশ। মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রাম লাল ভগত বলেন, তার ৪০ বছরের চাকরি জীবনে এমন প্রতারণামূলক গণবিয়ের ঘটনা তিনি প্রথম দেখলেন। সাধারণত কনে সংকট মোকাবিলায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সরকার গণবিয়েতে আর্থিক সহায়তা দেয়, যাতে কম সময়ে ও কম খরচে বিয়ে সম্পন্ন করা যায়। তবে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, মধ্যপ্রদেশের এই ভুয়া গণবিয়ের সঙ্গে কোনো সরকারি প্রকল্প বা নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক ছিল না।



























