ধামইরহাটে গৃহবধূ মেরিনা হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
- আপডেট সময় : ০৫:২৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় বিয়ের চাপ দেওয়ায় মেরিনা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ক্লু উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার মড়লই গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) এবং মোজাম্মেল হকের ছেলে তারেক রহমান (২১)। পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফের নেতৃত্বে টানা ছয়-সাত ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেল্টসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত মেরিনা বেগম ধামইরহাটের খেলনা ইউনিয়নের হাসেন আলীর স্ত্রী। তাঁর স্বামী ও ছেলে কাউসার আলী জীবিকার তাগিদে কুমিল্লায় থাকেন। গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে গরুর ঘাস কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মেরিনা। এরপর গত ১৮ আগস্ট উপজেলার তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের একটি আমবাগান থেকে তাঁর অর্ধদগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে লাশটির পরিচয় মেলেনি। পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, বাবুল হোসেনের সঙ্গে মেরিনা বেগমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক গভীর হলে মেরিনা বাবুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিয়ে না করলে তাঁর বাড়িতে চলে যাওয়া অথবা আত্মহত্যার হুমকি দেন মেরিনা। এই পরিস্থিতি এড়াতে বাবুল তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট রাতে বিয়ের কথা বলে মেরিনাকে মোটরসাইকেলে করে আগ্রাদ্বিগুন এলাকার তালপুকুর রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারজনের একটি দল মেরিনাকে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে পরিচয় গোপন রাখতে লাশের ওপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫৭আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫৮


























