এসেট প্রকল্পে হরিলুট, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে বাস্তবায়নাধীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ (এসেট)। দেশের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের এই মেগা প্রকল্পটিতে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য এবং অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খোদ প্রকল্পের ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই দুর্ভেদ্য সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ বা ‘অ্যাসেট’ গড়ে তুলছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসেট প্রকল্পের পরিচালক মীর জাহিদ হাসান, উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ মাহাতো, অ্যাকাউন্টস অফিসার সেলিম ভূঁইয়া এবং ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ নূর আলম মিলে একটি শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই চক্রের নানামুখী অনিয়মের কারণে মেগা প্রকল্পটির স্বাভাবিক কার্যক্রম এখন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমে চরম নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত হারে কমিশন বা আর্থিক সুবিধা না দিলে ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখা, সমঝোতা না হলে অযৌক্তিকভাবে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান এবং টেন্ডার মূল্যায়নের পরও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে ফাইল ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
এর বাইরে আরএফকিউ পদ্ধতির প্রকৃত ক্রয় সম্পন্ন না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে শর্ট কোর্স ও আরপিএলের পিএমইউ সাপোর্ট সার্ভিস বাবদ কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখে প্রকল্প পরিচালক নিজে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, উপ-প্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাতোর বিরুদ্ধে এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি), শর্ট কোর্স এবং কমিউনিকেশন কার্যক্রমের দায়িত্বে থেকে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণ পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রবীন্দ্রনাথ মাহাতোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রইচের প্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা সেন্টার এনআইসিআইটি লিমিটেড’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে বিপুল লভ্যাংশ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেই কালো টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে ফ্ল্যাট ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জনেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইএসসি-র মাধ্যমে প্রতি অকুপেশনে প্রায় ছিয়াশি হাজার টাকা গ্রহণের চাঞ্চল্যকর তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রকল্পের আর্থিক অনিয়ম ঢাকতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন অডিট আপত্তি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে মাত্র ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে সুকৌশলে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাপ্লাইয়ারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ হারে অর্থ আদায় এবং প্রকল্পের নির্ধারিত সীমানার বাইরে ব্যক্তিগত অফিস খুলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে অনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারি আর্থিক বিধিমালার চরম লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া এই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-প্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, "আপনি যে অভিযোগের কথা বলছেন, এমন হাজারো অভিযোগ আছে তাতে কিছু হয় না। আপনার যা মন চায় লিখে দিতে পারেন।" অনিয়মের ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসানের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি এবং খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত হিসাব কর্মকর্তা সেলিম ভূঁইয়া বলেন, "অভিযোগ তো অনেক আছে, তবে আপনারা যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারেন। আর হাতে সময় থাকলে চা খেয়ে যাবেন।"



























