যুদ্ধবিরতির সুযোগে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান
- আপডেট সময় : ০৩:০৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ক্রমাগত জোরদার করে যাচ্ছে ইরান। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান আলোচনা কোনো সফল পরিণতিতে না পৌঁছায়, তবে তারা আবারও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সামরিক শক্তি পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সমঝোতার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নতুন করে চুক্তির আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, সমঝোতা না হলে ইরানকে 'সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ' করতে হবে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আলোচনা চললেও তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম কোনোভাবেই থেমে নেই।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এবং বর্তমানে স্থগিত থাকা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় যুদ্ধবিরতির প্রতিটি মুহূর্তকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বাহিনীর বিদ্যমান সামরিক সরঞ্জাম উন্নত করা, নতুন সরঞ্জাম আমদানি, ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্রব্যবস্থা মেরামত এবং নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যার সক্ষমতার বিস্তারিত তথ্য পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
গত মাসে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ এবনে রেজা দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কার্যক্রম একদিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি। যুদ্ধের আগের তুলনায় ড্রোন উৎপাদন তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও তিনি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রদান করেননি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) একই ধরনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানান, যুদ্ধবিরতির এই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদ করার সক্ষমতাও উন্নত করা হয়েছে। তবে আইআরজিসির পক্ষ থেকে তাদের বর্তমান অস্ত্রের মজুত, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।



























