গণভোটের রায় না মানলে সরকারকেও ব্যর্থ করা হবে: জামায়াত আমির

- আপডেট সময় : ০৯:০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে গণভোটের মাধ্যমে ৭০ ভাগ মানুষ রায় দিয়েছে, সেই রায়কে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। গণভোটের রায় কার্যকর না করলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে এবং জনগণ তাদের বাধ্য করবে।
শনিবার বিকেলে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় আসার আগে গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে পালনের কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তারা তা ভুলে গেছেন। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা ৯১ সালের পরে ক্ষমতায় এসে বোঝেন নাই কেয়ারটেকার সরকার কাকে বলে। শেষ পর্যন্ত বুঝেছেন ঠিকই। আমরা বলবো জাতির ক্ষতি করে বুঝবেন না, এখনই বুঝুন। আমরা রাজপথে এভাবে থাকতে চাই না। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আপনারা আমাদেরকে রাজপথের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
বরিশালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার গঠনের আগে আপনারা ৩১ দফায় বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে সারা দেশের সুষম উন্নয়ন করবেন। বরিশালকে বঞ্চিত করে সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়। ঢাকা থেকে সড়ক পথে ভাঙ্গা এসে যখন সেখান থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম, তখন দেখি ভাঙ্গার পরেই ভাঙ্গা রাস্তা শুরু হয়েছে। তিনি সরকারকে ফ্যাসিবাদী পথ পরিহার করে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে সংবিধান সংস্কারের আহ্বান জানান।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দিয়ে পাঁচ হাজার টাকার পণ্যের দাম মেটানো সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ৭১-এর মর্যাদার পাশাপাশি ২৪-এর বীরদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে হবে এবং গণরায় না মানলে তারা গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে গণ্য হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসবে না। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আমার বাংলাদেশ পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তিনি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলাদেশে ফিরলে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে দেশের মানুষকে ভয় দেখানো বা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সকাল থেকে বরিশালে থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন। ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বেলা ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ১২টার দিক থেকেই নেতাদের বক্তব্য শুরু হয়। জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সৈয়দ আহমেদের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এই সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
























