ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউ মার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন গুলিতে নিহত সাতকানিয়াতে সন্ত্রাসী হামলায় জামায়াত কর্মী নিহত নরসিংদীতে নেশাখোর স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন ইউনিয়ন পরিষদে ৮০টির বেশি সেবা কাগজে-কলমে, বাস্তবে মিলছে মাত্র কয়েকটি বঞ্চনায় সাধারণ মানুষ তিনদিন ব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন নাগেশ্বরীতে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৩ বালিয়াকান্দিতে নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসকের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জে শিশুশ্রম নিরসনে সেমিনার অনুষ্ঠিত ফেনীতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন, সহকারী লোকমাস্টার আহত

ঈদের কেনাকাটায় সরগরম রানীরবন্দর

রিশাদ হোসেন, প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৮১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

রিশাদ হোসেন,
প্রতিনিধি:

দিনাজপুর আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনাজপুরের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র রানীরবন্দরে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা, ফলে শেষ মুহূর্তে এসে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বিপণিবিতানগুলো।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চিরিরবন্দর ও খানসামা—এই দুই উপজেলার মানুষের প্রধান মিলনস্থল ও কেনাকাটার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রানীরবন্দর। তবে এবারের ঈদে শুধু পার্শ্ববর্তী এলাকাই নয়, বরং সুদূর দিনাজপুর সদর এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকেও অনেক ক্রেতাকে এখানে আসতে দেখা যাচ্ছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সব ধরনের পণ্যের সমাহার থাকায় রানীরবন্দর এখন উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত শপিং হাবে পরিণত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রানীরবন্দরের ছোট-বড় প্রতিটি বিপণিবিতান সরোজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিক্রেতাদের ব্যস্ততায় পুরো এলাকা এখন সরগরম। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ক্রেতাদের চাহিদা এবং বাজারের সার্বিক অবস্থা জানতে আমরা কথা বলি স্থানীয় জনপ্রিয় বস্ত্র বিতান ‘চয়েজ পয়েন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নূর আলম খান নিসুর সাথে।
​তিনি জানান, “আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে আমাদের দোকানের সকল কর্মচারী এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্রেতারা তাদের পছন্দ ও রুচির কথা আমাদের জানাচ্ছেন, আর আমরাও সাধ্যমতো চেষ্টা করছি মানসম্মত পোশাক দিয়ে তাদের খুশি করতে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো উৎসবের এই সময়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা।”
গত কয়েকদিনের অনেক ক্রেতাদের সাথে কথা বলে মনে হচ্ছে, গত বছর গুলোর তুলনায় “এবারের বাজারে ক্রেতাদের মাঝে সচেতনতা অনেক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা কেবল ফ্যাশন নয়, বরং পোশাকের আরাম এবং স্থায়িত্বের দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছেন। যদিও পাইকারি বাজারে কাপড়ের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা চড়া, তবুও আমরা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা চিন্তা করে লভ্যাংশের হার কমিয়েছি। রানীরবন্দরের মতো একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে আমরা চাই ক্রেতারা যেন হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন, কারণ তাদের সন্তুষ্টিই আমাদের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য।”

​বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবারের মতো এবারও তরুণ ও পুরুষ ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ পাঞ্জাবি। বিভিন্ন নান্দনিক নকশা ও কারুকাজের পাঞ্জাবি নিয়ে দোকানদাররা পসরা সাজিয়েছেন। অন্যদিকে, নারী ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে পোশাক ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতে। থ্রি-পিস, শাড়ি এবং লেহেঙ্গার পাশাপাশি মানানসই গহনা ও প্রসাধনী কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এছাড়া বড়দের পাশাপাশি ছোটদের পোশাকেও ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

​এবারের ঈদে গরমের তীব্রতা থাকায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে। চারদিকে গ্রীষ্মের আগমনে সবাই ফ্যাশনের চেয়ে আরামকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ফলে সুতি ও হালকা রঙের পোশাকের বিক্রি সবচেয়ে বেশি। ক্রেতাদের মতে, উৎসবের আনন্দ ধরে রাখতে গরমের কথা মাথায় রেখেই তারা আরামদায়ক কাপড় বেছে নিচ্ছেন।

​কেনাকাটা নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেছেন যে, গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম কিছুটা চড়া। তবে অনেক ক্রেতাই আবার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, পছন্দের পোশাক কেনার পর বিক্রেতারা বেশ ভালো ছাড় (ডিসকাউন্ট) দিচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক।

​সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজে রানীরবন্দরের প্রতিটি অলিগলি এখন মুখরিত। শেষ মুহূর্তের এই কেনাকাটা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে চলবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ঈদের কেনাকাটায় সরগরম রানীরবন্দর

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
print news

রিশাদ হোসেন,
প্রতিনিধি:

দিনাজপুর আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনাজপুরের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র রানীরবন্দরে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা, ফলে শেষ মুহূর্তে এসে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বিপণিবিতানগুলো।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চিরিরবন্দর ও খানসামা—এই দুই উপজেলার মানুষের প্রধান মিলনস্থল ও কেনাকাটার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রানীরবন্দর। তবে এবারের ঈদে শুধু পার্শ্ববর্তী এলাকাই নয়, বরং সুদূর দিনাজপুর সদর এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকেও অনেক ক্রেতাকে এখানে আসতে দেখা যাচ্ছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সব ধরনের পণ্যের সমাহার থাকায় রানীরবন্দর এখন উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত শপিং হাবে পরিণত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রানীরবন্দরের ছোট-বড় প্রতিটি বিপণিবিতান সরোজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিক্রেতাদের ব্যস্ততায় পুরো এলাকা এখন সরগরম। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ক্রেতাদের চাহিদা এবং বাজারের সার্বিক অবস্থা জানতে আমরা কথা বলি স্থানীয় জনপ্রিয় বস্ত্র বিতান ‘চয়েজ পয়েন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নূর আলম খান নিসুর সাথে।
​তিনি জানান, “আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে আমাদের দোকানের সকল কর্মচারী এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্রেতারা তাদের পছন্দ ও রুচির কথা আমাদের জানাচ্ছেন, আর আমরাও সাধ্যমতো চেষ্টা করছি মানসম্মত পোশাক দিয়ে তাদের খুশি করতে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো উৎসবের এই সময়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা।”
গত কয়েকদিনের অনেক ক্রেতাদের সাথে কথা বলে মনে হচ্ছে, গত বছর গুলোর তুলনায় “এবারের বাজারে ক্রেতাদের মাঝে সচেতনতা অনেক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা কেবল ফ্যাশন নয়, বরং পোশাকের আরাম এবং স্থায়িত্বের দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছেন। যদিও পাইকারি বাজারে কাপড়ের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা চড়া, তবুও আমরা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা চিন্তা করে লভ্যাংশের হার কমিয়েছি। রানীরবন্দরের মতো একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে আমরা চাই ক্রেতারা যেন হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন, কারণ তাদের সন্তুষ্টিই আমাদের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য।”

​বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবারের মতো এবারও তরুণ ও পুরুষ ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ পাঞ্জাবি। বিভিন্ন নান্দনিক নকশা ও কারুকাজের পাঞ্জাবি নিয়ে দোকানদাররা পসরা সাজিয়েছেন। অন্যদিকে, নারী ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে পোশাক ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতে। থ্রি-পিস, শাড়ি এবং লেহেঙ্গার পাশাপাশি মানানসই গহনা ও প্রসাধনী কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এছাড়া বড়দের পাশাপাশি ছোটদের পোশাকেও ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

​এবারের ঈদে গরমের তীব্রতা থাকায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে। চারদিকে গ্রীষ্মের আগমনে সবাই ফ্যাশনের চেয়ে আরামকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ফলে সুতি ও হালকা রঙের পোশাকের বিক্রি সবচেয়ে বেশি। ক্রেতাদের মতে, উৎসবের আনন্দ ধরে রাখতে গরমের কথা মাথায় রেখেই তারা আরামদায়ক কাপড় বেছে নিচ্ছেন।

​কেনাকাটা নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেছেন যে, গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম কিছুটা চড়া। তবে অনেক ক্রেতাই আবার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, পছন্দের পোশাক কেনার পর বিক্রেতারা বেশ ভালো ছাড় (ডিসকাউন্ট) দিচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক।

​সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজে রানীরবন্দরের প্রতিটি অলিগলি এখন মুখরিত। শেষ মুহূর্তের এই কেনাকাটা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে চলবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।