ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে হামলা: ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা ভারতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হবে: দীনেশ ত্রিবেদী জনরায় উপেক্ষা করে সরকার টিকে থাকতে পারে না: খেলাফত মজলিস ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না, সাফ জানালেন ট্রাম্প জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনের পেছনে বসানো হলো কালেমা তায়্যিবা সাবেক মেয়র লিটনসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ক্যানিজিয়ার উপস্থিতিতে ডিআইএসসিএল চ্যাম্পিয়ন নৌবাহিনী কলেজ বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়তে চায় ভারত রাজধানীতে চিকিৎসকের ওপর হামলা, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, কাকরাইলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫ ২১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

শিক্ষা ও মানবিক অধিকার সংক্রান্ত তিন দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আয়োজিত ‘মার্চ টু যমুনা’ শীর্ষক কর্মসূচি আজ রাজধানীর কাকরাইলে পুলিশের বাধার মুখে সহিংস রূপ নেয়। টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং সরাসরি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো কাকরাইল মোড়।

বুধবার (১৪ মে) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে যমুনা ভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে এগোতে থাকলেও দুপুর ১টার দিকে মৎস্য ভবন অতিক্রম করার পর কাকরাইল মসজিদের কাছে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তার উপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে। এ সময় হট্টগোল, আতঙ্ক এবং আহতদের আহাজারিতে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আহত অবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীকে সহপাঠীরা রাস্তায় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, পুলিশি আঘাতে অন্তত কয়েক ডজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক নিশ্চিত করেন, সংঘর্ষে আহত অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ওমর ফারুক, সাকিব, আরিফ আসলাম, বিন মোহাম্মদ ইমন, রেদোয়ান, আসিফ, রহমান, শফিক, মুজাহিদ, নাহিদ হাসান, রায়হান, জিহাদ, আবু বক্কর, নিউটন ইসলাম, ফারুক হোসেন, রাসেল, মাহিদ, রফিক ও জিসানুলসহ আরও অনেকে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা রক্ত দিয়েছি, প্রয়োজনে আরও রক্ত দেবো—তবু এই দাবি থেকে একচুলও সরে দাঁড়াব না।” তারা অভিযোগ করেন, ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাজপথে নামলেই দমন-পীড়নের শিকার হতে হচ্ছে।

তাদের তিন দফা দাবি নিম্নরূপ:

১. আবাসন সংকট নিরসনে ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তি: বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সমস্যায় ভুগছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি চালুর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে অন্তত ভাড়া ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তা মিলবে।

২. পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন: প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট বিনা কর্তনে অনুমোদনের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই বাজেট কাটছাঁট করে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো সংকট নিরসনে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প অবিলম্বে একনেক সভায় অনুমোদন দিয়ে ‘অগ্রাধিকার প্রকল্প’ হিসেবে বাস্তবায়নের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৩টা) কাকরাইল এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘অবরোধ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘পাল্টা কর্মসূচি’—সবই এখন আলোচনার টেবিলে।

তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে একটি বাক্যই: “দাবি মানতে হবে, নতুবা আন্দোলন চলবেই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, কাকরাইলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ০৯:২৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

শিক্ষা ও মানবিক অধিকার সংক্রান্ত তিন দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আয়োজিত ‘মার্চ টু যমুনা’ শীর্ষক কর্মসূচি আজ রাজধানীর কাকরাইলে পুলিশের বাধার মুখে সহিংস রূপ নেয়। টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং সরাসরি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো কাকরাইল মোড়।

বুধবার (১৪ মে) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে যমুনা ভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে এগোতে থাকলেও দুপুর ১টার দিকে মৎস্য ভবন অতিক্রম করার পর কাকরাইল মসজিদের কাছে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তার উপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে। এ সময় হট্টগোল, আতঙ্ক এবং আহতদের আহাজারিতে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আহত অবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীকে সহপাঠীরা রাস্তায় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, পুলিশি আঘাতে অন্তত কয়েক ডজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক নিশ্চিত করেন, সংঘর্ষে আহত অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ওমর ফারুক, সাকিব, আরিফ আসলাম, বিন মোহাম্মদ ইমন, রেদোয়ান, আসিফ, রহমান, শফিক, মুজাহিদ, নাহিদ হাসান, রায়হান, জিহাদ, আবু বক্কর, নিউটন ইসলাম, ফারুক হোসেন, রাসেল, মাহিদ, রফিক ও জিসানুলসহ আরও অনেকে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা রক্ত দিয়েছি, প্রয়োজনে আরও রক্ত দেবো—তবু এই দাবি থেকে একচুলও সরে দাঁড়াব না।” তারা অভিযোগ করেন, ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাজপথে নামলেই দমন-পীড়নের শিকার হতে হচ্ছে।

তাদের তিন দফা দাবি নিম্নরূপ:

১. আবাসন সংকট নিরসনে ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তি: বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সমস্যায় ভুগছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি চালুর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে অন্তত ভাড়া ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তা মিলবে।

২. পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন: প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট বিনা কর্তনে অনুমোদনের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই বাজেট কাটছাঁট করে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো সংকট নিরসনে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প অবিলম্বে একনেক সভায় অনুমোদন দিয়ে ‘অগ্রাধিকার প্রকল্প’ হিসেবে বাস্তবায়নের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৩টা) কাকরাইল এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘অবরোধ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘পাল্টা কর্মসূচি’—সবই এখন আলোচনার টেবিলে।

তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে একটি বাক্যই: “দাবি মানতে হবে, নতুবা আন্দোলন চলবেই।”