চোটের অজুহাতে ব্যাটিং না করার অভিযোগ, তদন্তের মুখে ইমাম-উল-হক
- আপডেট সময় : ০১:০১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

লর্ডস টেস্টে চোটের অজুহাত দেখিয়ে ব্যাটিংয়ে না নামার কারণে পাকিস্তান দলের বাঁহাতি ওপেনার ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তাঁর এই চোট নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন অনেকে। এবার পিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক ও সাবেক পেসার আকিব জাভেদ সরাসরি ইমামের চোটের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাঁকে তদন্তের মুখোমুখি করার কথা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিও’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকিব জাভেদ তাঁর গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অতীতে অনেক খেলোয়াড় মারাত্মক চোট নিয়েও প্লাস্টার করে দেশের জন্য মাঠে লড়াই করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পেশিতে সামান্য টানের কারণে ইমাম কীভাবে দুই ইনিংসের একটিতেও ব্যাট করতে পারলেন না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। ইমাম চোটের ভান করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও আকিবের মতে, এ ধরনের পেশির টান কোনো ব্যাটসম্যানকে পুরোপুরি ব্যাটিং থেকে দূরে রাখতে পারে না। তাই ইমামকে পিসিবির তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তান দল থেকে যে সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, ইমাম-উল-হক তাঁদের একজন। লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে পিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, ইমামের বাঁ পায়ের পেশিতে চোট লেগেছে। তবে টেস্টের বাকি সময় তিনি মাঠের বাইরে থাকলেও চতুর্থ দিনের সকালে তাঁকে দলের অন্য ক্রিকেটারদের সাথে বেশ স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করতে দেখা যায়।
ইমামের এই অনুশীলনকে ‘লোকদেখানো’ বলে মন্তব্য করে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় কড়া সমালোচনা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। একই সুর শোনা গেছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের কণ্ঠেও, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমামের এমন আচরণের সমালোচনা করেন।
শুধু খেলোয়াড় পরিবর্তনই নয়, পাকিস্তান ক্রিকেটে কোচিং স্টাফেও বড় রদবদল আনা হয়েছে। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও ও বোলিং কোচ উমর গুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে আকিব জাভেদ বলেন, দুই টেস্ট শেষ হলেও দল কোনো ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি। দলে উবায়েদ শাহর মতো ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার, পেস বোলিং অলরাউন্ডার ও দ্বিতীয় উইকেটকিপার থাকা সত্ত্বেও তাঁদের খেলানো হয়নি। আকিব নিজে অধিনায়ক বাবর আজম ও কোচের সঙ্গে কথা বলে উবায়েদকে খেলানোর পরামর্শ দিলেও তা মানা হয়নি।
দলের প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের কেউই বোলিং করতে পারেন না উল্লেখ করে আকিব দল গঠন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, অফ ফর্মে থাকা সালমান আগার পরিবর্তে দলে একজন অলরাউন্ডার রাখা উচিত ছিল এবং উইকেটকিপার হিসেবে মোহাম্মদ রিজওয়ানের জায়গায় গাজি ঘোরিকে খেলানো দরকার ছিল। পাকিস্তানের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্বজুড়ে হাসাহাসি হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, জাতীয় দলের সফরে লড়াই করার মানসিকতা থাকতে হবে।
পিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগে প্রায় দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন আকিব জাভেদ। এই সময়ে জেসন গিলেস্পি ও গ্যারি কারস্টেনের মতো হাই-প্রোফাইল কোচরা বিদায় নিয়েছেন। তিন মাস আগে সরফরাজ আহমেদকে প্রধান কোচ করার পেছনেও আকিবের ভূমিকা ছিল, তবে ছয় টেস্ট পরেই সরফরাজকে বরখাস্ত করা হয়। সম্প্রতি নির্বাচক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। তবে মিসবাহর মতো পদত্যাগ করার কোনো ইচ্ছে নেই আকিবের। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দল নির্বাচনের দায়িত্ব তাঁদের হলেও সফরের পর ম্যাচ অনুযায়ী একাদশ গঠনে তাঁদের কোনো হাত থাকে না।
পাকিস্তানের নতুন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন আকিব জাভেদ। বাবর আজম ও হেসন মিলে দলকে সঠিক পথে ফেরাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামের এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।




























