অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে নিয়ে এই নির্দেশনা দেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হবে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ১৩টি স্থান আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায়। ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন সেখানে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করছেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। এ সময় গুলি করার হুমকির শব্দও শোনা যায়। ঘটনাস্থলে থাকা প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন।
নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন দাবি করেছেন, তিনি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সেখানে গিয়েছিলেন। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর পুলিশকে আসতে বলেন তিনি। অভিযানের সময় মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, অভিযানে চার-পাঁচটি মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা জানিয়েছিলেন, অভিযানের বিষয়টি পুলিশকে আগে জানানো হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি ও সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র হাতে অভিযান চালানো গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে যখন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বার্তা দিচ্ছেন, তখন ইশরাকের এই কর্মকাণ্ড সরকারকে বিব্রত করেছে। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। ইশরাকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর অবস্থান নিলেন প্রধানমন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শত্রুদের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে বলে…
ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মের পরিচয়ে নয়, বরং সবাই এই দেশের…
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হওয়ায় বারান্দা,…
চলমান শারদীয় দুর্গোৎসবে ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে…
ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল শহরের আওয়ার লেডি অব পারপেচুয়াল হেল্প গির্জায় প্রার্থনাসভা চলাকালে মাথার ওপর ক্রুশ ভেঙে…
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল। সোমবার তিনি…
This website uses cookies.