Header Premium (728×90)

আবু জাফর আল-উরইয়ানি: ইবন আরাবির আধ্যাত্মিক গুরু ও সাধনার পথ

দ্বাদশ শতকের আন্দালুসিয়ার (বর্তমান পর্তুগাল ও স্পেন) অন্যতম বিখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন আবু জাফর আল-উরইয়ানি। তিনি ছিলেন মহান সুফি দার্শনিক ইবন আরাবির প্রথম আধ্যাত্মিক গুরু। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা অক্ষরজ্ঞান না থাকলেও, খোদার প্রেমে এবং আত্মশুদ্ধির পথে তিনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। ১১৮৪ খ্রিষ্টাব্দে তরুণ ইবন আরাবি তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং তার সান্নিধ্যেই ইবন আরাবির আধ্যাত্মিক জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে। ১১৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই মহান সাধক মৃত্যুবরণ করেন।

আল-উরইয়ানি সবসময় আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন থাকতেন, এমনকি ঘুমের মধ্যেও তার জিকির থামত না। ইবন আরাবি তার ‘রূহ আল-কুদস ও আদ-দুররাত আল-ফাখিরাহ’ (ইংরেজি ভার্সন ‘আন্দালুসের সুফি’) গ্রন্থে আল-উরইয়ানির জীবন, সাধনা ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ইবন আরাবির বর্ণনায়, আল-উরইয়ানি ছিলেন এক পবিত্র আত্মা, যার হৃদয়ের জ্ঞান অক্ষরের জ্ঞানের চেয়েও গভীর ছিল। তিনি শিক্ষা দিতেন যে, আল্লাহর পথে চলতে হলে পার্থিব মোহ ও চারপাশের ভিড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তার জীবনের নানা ঘটনা অলৌকিকতার চেয়েও আধ্যাত্মিক ইশারার প্রতীক হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। একবার খ্রিষ্টানদের হাতে বন্দী হওয়ার সময় তিনি তার কাফেলার পরিণতি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, মানুষের মুক্তি কেবল নিজের নয়, বরং অন্যদেরও মুক্তির সম্ভাবনা বহন করে। কুতাল দুর্গে তার প্রার্থনায় বৃষ্টি নামার ঘটনা বা অন্ধ অবস্থায় কোরআনের রহস্য নিয়ে তার মন্তব্য—সবই ছিল তার গভীর তওহিদের জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ।

ইবন আরাবি তাকে ‘পুত্র’ বলে সম্বোধন করতেন এবং তার আধ্যাত্মিক সামা ও কোরআন পাঠের সময়কার গভীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন। শহরের লোকেরা অনেক সময় তাকে বুঝতে না পেরে দূরে সরিয়ে দিলেও, অলৌকিক ও অদৃশ্য ঘটনার মাধ্যমে তিনি পুনরায় তাদের কাছে ফিরে আসতেন। শেষ জীবনে তিনি আবু আবদুল্লাহ ইবন আল-হাওয়াসের মজলিসে অবস্থানকালে আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণভাবে ফিরে যান। তার কাছে প্রতিটি ঘটনা ছিল একটি ইশারা এবং প্রতিটি দৃশ্য ছিল সত্যকে দেখার একটি আয়না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

Recent Posts

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক…

10 seconds ago

লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ…

3 minutes ago

যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুদ্ধে জয়ী হলে পরাজিত…

12 minutes ago

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই…

21 minutes ago

জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য এবং…

28 minutes ago

পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতির দাবি করা হলেও বাস্তবে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও…

34 minutes ago

This website uses cookies.