
দ্বাদশ শতকের আন্দালুসিয়ার (বর্তমান পর্তুগাল ও স্পেন) অন্যতম বিখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন আবু জাফর আল-উরইয়ানি। তিনি ছিলেন মহান সুফি দার্শনিক ইবন আরাবির প্রথম আধ্যাত্মিক গুরু। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা অক্ষরজ্ঞান না থাকলেও, খোদার প্রেমে এবং আত্মশুদ্ধির পথে তিনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। ১১৮৪ খ্রিষ্টাব্দে তরুণ ইবন আরাবি তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং তার সান্নিধ্যেই ইবন আরাবির আধ্যাত্মিক জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে। ১১৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই মহান সাধক মৃত্যুবরণ করেন।
আল-উরইয়ানি সবসময় আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন থাকতেন, এমনকি ঘুমের মধ্যেও তার জিকির থামত না। ইবন আরাবি তার ‘রূহ আল-কুদস ও আদ-দুররাত আল-ফাখিরাহ’ (ইংরেজি ভার্সন ‘আন্দালুসের সুফি’) গ্রন্থে আল-উরইয়ানির জীবন, সাধনা ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ইবন আরাবির বর্ণনায়, আল-উরইয়ানি ছিলেন এক পবিত্র আত্মা, যার হৃদয়ের জ্ঞান অক্ষরের জ্ঞানের চেয়েও গভীর ছিল। তিনি শিক্ষা দিতেন যে, আল্লাহর পথে চলতে হলে পার্থিব মোহ ও চারপাশের ভিড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
তার জীবনের নানা ঘটনা অলৌকিকতার চেয়েও আধ্যাত্মিক ইশারার প্রতীক হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। একবার খ্রিষ্টানদের হাতে বন্দী হওয়ার সময় তিনি তার কাফেলার পরিণতি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, মানুষের মুক্তি কেবল নিজের নয়, বরং অন্যদেরও মুক্তির সম্ভাবনা বহন করে। কুতাল দুর্গে তার প্রার্থনায় বৃষ্টি নামার ঘটনা বা অন্ধ অবস্থায় কোরআনের রহস্য নিয়ে তার মন্তব্য—সবই ছিল তার গভীর তওহিদের জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ।
ইবন আরাবি তাকে ‘পুত্র’ বলে সম্বোধন করতেন এবং তার আধ্যাত্মিক সামা ও কোরআন পাঠের সময়কার গভীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন। শহরের লোকেরা অনেক সময় তাকে বুঝতে না পেরে দূরে সরিয়ে দিলেও, অলৌকিক ও অদৃশ্য ঘটনার মাধ্যমে তিনি পুনরায় তাদের কাছে ফিরে আসতেন। শেষ জীবনে তিনি আবু আবদুল্লাহ ইবন আল-হাওয়াসের মজলিসে অবস্থানকালে আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণভাবে ফিরে যান। তার কাছে প্রতিটি ঘটনা ছিল একটি ইশারা এবং প্রতিটি দৃশ্য ছিল সত্যকে দেখার একটি আয়না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২