নারীর পক্ষ শব্দটির আভিধানিক অর্থ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই শব্দটিকে পক্ষপাতদুষ্ট মনে করতে পারেন, কারণ পক্ষপাতিত্বের সাধারণ অর্থ হলো নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের প্রতি ঝোঁক দেখানো। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘নারীপক্ষ’ নামক সংগঠনটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটি কোনো সংকীর্ণ পক্ষপাতিত্বে বিশ্বাসী নয়। বাংলাদেশে নারীর প্রতি অবজ্ঞা ও সহিংসতার যে উদ্বেগজনক চিত্র বিদ্যমান, তা থেকে উত্তরণের জন্য নারীদের নিজস্ব একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নারীপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ‘জেন্ডার’ বা লিঙ্গ ভূমিকা। এটি কোনো জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য নয়, বরং সমাজ ও সংস্কৃতি দ্বারা নির্ধারিত ভূমিকা, যা নারী ও পুরুষের পরিচয় ও আচরণকে প্রভাবিত করে। সমাজবিজ্ঞানীরা লিঙ্গ ভূমিকা শব্দটিকে যৌনতার জৈবিক ধারণা থেকে আলাদা করে দেখেন, যা দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কারিগর নারী। পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে কৃষি ও অকৃষি খাতে নারীর অংশগ্রহণ দেশের অগ্রগতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। তবে এ দেশে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ক্ষমতায়নের মূল মাপকাঠি হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং নারী-পুরুষের মজুরি-বৈষম্য দূর করা। এই দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাশিয়ায় ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে অস্থায়ী সরকার নারীদের ভোটাধিকার দেয় এবং পরবর্তীতে ১৯১৮ সালের সোভিয়েত সংবিধানে তা নিশ্চিত করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯২০ সালে নারীদের ভোটাধিকার এবং ১৯৬৪ সালে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করার মতো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের পথে এগিয়েছে। এই দেশগুলোর মতো নারী অধিকার ও সাম্যবাদের মূল লক্ষ্য হলো শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সাম্যবাদ যেমন শ্রেণিগত শোষণ দূর করতে চায়, তেমনি নারী আন্দোলনও লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতন ও বৈষম্য বিলোপে কাজ করে।
নারীকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে মর্যাদাবান মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৩ সাল থেকে নারীপক্ষ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। সংগঠনটি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিবীক্ষণ, স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নারী নির্যাতন বিষয়ক গবেষণার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে আইন প্রণয়নসহ জনজীবনে নারীর নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে তারা নিয়মিত সংলাপ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। নারীপক্ষের এক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ১৯৭৩-১৯৭৫ মেয়াদের প্রথম জাতীয় সংসদে ১৫টি সংরক্ষিত আসনের প্রতিনিধিরাই ছিলেন সংসদের নারী প্রতিনিধিত্ব, যা ১৯৭৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
১৯৭৯-১৯৮২ মেয়াদে দ্বিতীয় সংসদে ২ জন নির্বাচিত ও ৩০টি নারী আসন মিলিয়ে মোট ৩২ জন নারী সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৮৮-৯০ মেয়াদে চতুর্থ সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল না। ৪ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন।
ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরণের হ্যাকিং বা প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তিবিষয়ক…
‘ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচাওরে সবুজ ওরে অবুঝআধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’— রবীন্দ্রনাথের এই আহ্বানকে…
আগামী ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসার আগে ভারতীয় ফুটবলের সংস্কৃতি ও তৃণমূল…
বিয়ে ও দাম্পত্য জীবনের প্রচলিত প্রথা নিয়ে নিজের খোলামেলা মতামত জানালেন অভিনেত্রী ও গায়িকা শ্রুতি…
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির পাশে…
বারিধারায় ফুটপাতে নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায়…
This website uses cookies.