ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা বাউফলে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ কাজীপুরের যমুনার চরাঞ্চলে যাতায়াত সংকট, নৌকাই একমাত্র ভরসা সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৭ সালের সভাপতি হচ্ছে পাকিস্তান অস্তিত্বের সংকটে সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক বারুহাস ইমামবাড়ি ও তিন গম্বুজ মসজিদ গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ারসহ আটক ১ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ৫১৯ মাদারীপুরের শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত

ডাক্তার ও কর্মকর্তা নেই, আয়ার ভরসায় গোয়াইনঘাটের আলীরগাঁও স্বাস্থ্যকেন্দ্র

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বর্তমানে কার্যত নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ দিন ধরে এখানে কোনো চিকিৎসক বা কর্মকর্তা নেই। বর্তমানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের একমাত্র ভরসা ওই কেন্দ্রের আয়া দিলারা বেগম।

সোমবার দুপুরে কেন্দ্রটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ভবনটি প্রায় জনশূন্য। সেখানে কোনো চিকিৎসক, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) কিংবা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) উপস্থিত নেই। আয়া দিলারা বেগম একাই কেন্দ্রটি খুলে বসে আছেন। কোনো রোগী এলে পরামর্শ বা ওষুধ দেওয়ার মতো কোনো লোক সেখানে নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সপ্তাহের শুধুমাত্র বুধবার জাফলং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে একজন কর্মকর্তা এসে কয়েক ঘণ্টার জন্য সেবা প্রদান করেন। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে কোনো কর্মকর্তা না থাকায় গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা চিকিৎসা এবং সরকারি ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সামান্য সর্দি-জ্বরের চিকিৎসার জন্যও তাদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদরের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আজির উদ্দিন ও শেরগুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গরিব মানুষ হওয়ায় বড় ডাক্তারের কাছে ফি দিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তাদের নেই। সরকারি এই কেন্দ্রে এসে ডাক্তার ও ওষুধ পাওয়ার আশায় তারা হতাশ হচ্ছেন। বুধবার ছাড়া অন্য কোনো দিন এখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না, যা তাদের জন্য চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে আয়া দিলারা বেগম বলেন, ডাক্তার না থাকায় রোগীরা এসে তার ওপর রাগ করেন। সপ্তাহে বুধবার জাফলং থেকে এক ম্যাডাম আসেন, তখন কিছু রোগী ওষুধ পান, বাকি দিন রোগীরা এসে ঘুরে যান। একা এই বড় কেন্দ্র সামলানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বদরুল ইসলাম জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, কর্মকর্তা সংকটের কারণেই জাফলং থেকে ডেপুটেশনে সপ্তাহে একদিন সেবা দেওয়া হচ্ছে। শূন্য পদের বিবরণ উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়োগ বা পদায়ন হলেই সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও স্টাফ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সাময়িক এই জনভোগান্তির জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত স্থায়ী চিকিৎসক ও কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ডাক্তার ও কর্মকর্তা নেই, আয়ার ভরসায় গোয়াইনঘাটের আলীরগাঁও স্বাস্থ্যকেন্দ্র

আপডেট সময় : ০২:৩৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বর্তমানে কার্যত নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ দিন ধরে এখানে কোনো চিকিৎসক বা কর্মকর্তা নেই। বর্তমানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের একমাত্র ভরসা ওই কেন্দ্রের আয়া দিলারা বেগম।

সোমবার দুপুরে কেন্দ্রটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ভবনটি প্রায় জনশূন্য। সেখানে কোনো চিকিৎসক, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) কিংবা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) উপস্থিত নেই। আয়া দিলারা বেগম একাই কেন্দ্রটি খুলে বসে আছেন। কোনো রোগী এলে পরামর্শ বা ওষুধ দেওয়ার মতো কোনো লোক সেখানে নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সপ্তাহের শুধুমাত্র বুধবার জাফলং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে একজন কর্মকর্তা এসে কয়েক ঘণ্টার জন্য সেবা প্রদান করেন। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে কোনো কর্মকর্তা না থাকায় গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা চিকিৎসা এবং সরকারি ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সামান্য সর্দি-জ্বরের চিকিৎসার জন্যও তাদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদরের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আজির উদ্দিন ও শেরগুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গরিব মানুষ হওয়ায় বড় ডাক্তারের কাছে ফি দিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তাদের নেই। সরকারি এই কেন্দ্রে এসে ডাক্তার ও ওষুধ পাওয়ার আশায় তারা হতাশ হচ্ছেন। বুধবার ছাড়া অন্য কোনো দিন এখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না, যা তাদের জন্য চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে আয়া দিলারা বেগম বলেন, ডাক্তার না থাকায় রোগীরা এসে তার ওপর রাগ করেন। সপ্তাহে বুধবার জাফলং থেকে এক ম্যাডাম আসেন, তখন কিছু রোগী ওষুধ পান, বাকি দিন রোগীরা এসে ঘুরে যান। একা এই বড় কেন্দ্র সামলানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বদরুল ইসলাম জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, কর্মকর্তা সংকটের কারণেই জাফলং থেকে ডেপুটেশনে সপ্তাহে একদিন সেবা দেওয়া হচ্ছে। শূন্য পদের বিবরণ উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়োগ বা পদায়ন হলেই সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও স্টাফ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সাময়িক এই জনভোগান্তির জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত স্থায়ী চিকিৎসক ও কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin