ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ আহত ৪৫ ওমর সানী: পরিবার ও শিল্পীদের নিয়ে মিথ্যা তথ্যের প্রতিবাদ, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি পদত্যাগ করিনি, সুস্থ হয়ে চুয়েটে ফিরব: উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ কালীগঞ্জে দুই রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তাহীনতায় হাজারো মানুষ আটঘরিয়ায় ১৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিস্টের জায়গা হবে না: আমানউল্লাহ আমান সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি ও পাচারের প্রতিবাদে উত্তাল দেশ বেতাগীতে জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুবিধার হিসাবনিকাশে নেমেছে। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আপাতত সতর্ক পর্যবেক্ষণ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ, সাংবিধানিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের সুবিন্যস্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার তাৎপর্য বহুমুখী। এতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং প্রবাসী শ্রমবাজার সংক্রান্ত গভীর সম্পর্ক আরও সুসংহত হতে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ ৫.৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা দেশটিকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার করে তুলেছে। তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ড্রোন ও ইউএভি প্রযুক্তি, সামরিক প্রশিক্ষণ, স্থলবাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং নৌ ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা স্বচ্ছ, সীমিত এবং ভারতবিরোধী কোনো কাঠামোর বাইরে হওয়া প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকির দিকও চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে এই চুক্তির সাংহর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা। এছাড়া আঞ্চলিক শক্তিসমূহের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে একটি পক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কূটনৈতিক জটিলতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, ভারত বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো বিষয়ে দিল্লি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, যা একটি পরোক্ষ মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত ৭ই আগস্ট মক্কার আল-সাফা রাজপ্রাসাদে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি একটি গভীরতর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাঠামো। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫ এর আদলে তৈরি এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা তিন দেশের ওপরই আক্রমণ বলে গণ্য হবে। তবে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী চুক্তির বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সৌদি আরব ইরানের হামলার মুখে পড়লেও পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। একইভাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার পর বাব আল-মান্দেবে হুতিদের আক্রমণে বাংলাদেশকে সৈন্য পাঠাতে হয়নি। এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই।

প্রতিবেদনে কৌশল হিসেবে স্বয়ংক্রিয় সামরিক জোটের বাধ্যবাধকতায় যুক্ত না হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, শান্তিরক্ষা, সামরিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে একটি স্থায়ী বিশ্লেষণ কাঠামো তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সুপারিশে বলা হয়েছে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন এবং জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৩:৪০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুবিধার হিসাবনিকাশে নেমেছে। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আপাতত সতর্ক পর্যবেক্ষণ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ, সাংবিধানিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের সুবিন্যস্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার তাৎপর্য বহুমুখী। এতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং প্রবাসী শ্রমবাজার সংক্রান্ত গভীর সম্পর্ক আরও সুসংহত হতে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ ৫.৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা দেশটিকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার করে তুলেছে। তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ড্রোন ও ইউএভি প্রযুক্তি, সামরিক প্রশিক্ষণ, স্থলবাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং নৌ ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা স্বচ্ছ, সীমিত এবং ভারতবিরোধী কোনো কাঠামোর বাইরে হওয়া প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকির দিকও চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে এই চুক্তির সাংহর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা। এছাড়া আঞ্চলিক শক্তিসমূহের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে একটি পক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কূটনৈতিক জটিলতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, ভারত বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো বিষয়ে দিল্লি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, যা একটি পরোক্ষ মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত ৭ই আগস্ট মক্কার আল-সাফা রাজপ্রাসাদে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি একটি গভীরতর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাঠামো। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫ এর আদলে তৈরি এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা তিন দেশের ওপরই আক্রমণ বলে গণ্য হবে। তবে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী চুক্তির বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সৌদি আরব ইরানের হামলার মুখে পড়লেও পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। একইভাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার পর বাব আল-মান্দেবে হুতিদের আক্রমণে বাংলাদেশকে সৈন্য পাঠাতে হয়নি। এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই।

প্রতিবেদনে কৌশল হিসেবে স্বয়ংক্রিয় সামরিক জোটের বাধ্যবাধকতায় যুক্ত না হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, শান্তিরক্ষা, সামরিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে একটি স্থায়ী বিশ্লেষণ কাঠামো তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সুপারিশে বলা হয়েছে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন এবং জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin