ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৭ সালের সভাপতি হচ্ছে পাকিস্তান অস্তিত্বের সংকটে সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক বারুহাস ইমামবাড়ি ও তিন গম্বুজ মসজিদ গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ারসহ আটক ১ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ৫১৯ মাদারীপুরের শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান নিহত রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ২০ হামলায় নিহত ১৭ যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ শিশু ও শিক্ষক ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি ৩.১%, এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২১.৩ শতাংশ

সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচার: হাতবদল হলেও কমেনি কারবার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গ্রামীণ সড়কের গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে ‘মাদককে না বলুন—এমপি বাবুল’ লেখা সতর্কবার্তা চোখে পড়ে। তবে এই প্রচারণার ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে গত ১৪ এপ্রিল। ওইদিন লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের ভাতিজা ইলিয়াছ হোসেন ওরফে লিটন র‍্যাবের হাতে আটক হন। তার বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ভারত থেকে আসা কোডিনযুক্ত নিষিদ্ধ সিরাপ ‘এসকাফ’-এর একটি বড় চালান উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে এমপি বাবুল ১৯ আগস্ট টেলিফোনে বলেন, ‘প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করে আমার ভাতিজাকে মাদকে ফাঁসিয়েছিল। পরে র‌্যাব বিষয়টি জানতে পেরে আর বাড়াবাড়ি করেনি। একটি বিশেষ মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আপনারা চাইলে সরেজমিন বিষয়টি যাচাই করে দেখতে পারেন।’

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা—এই চার জেলা সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিন্দুমাত্র কমেনি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কেবল কারবার নিয়ন্ত্রণের হাতবদল হয়েছে। আগে যারা আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ব্যবসা চালাতেন, তাদের অনেকে এখন নতুন ক্ষমতাবলয়ের প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে একই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

চোরাচালানিরা এখন নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে উল্টো পুলিশের ওপর নজরদারি, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার এবং নারী ও শিশুদের বাহক হিসেবে কাজে লাগিয়ে মাদক ও অস্ত্র সীমান্ত পার করা হচ্ছে। এছাড়া হুন্ডি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে চলছে আর্থিক লেনদেন।

আমার দেশের প্রতিনিধিরা ১২ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সীমান্তের প্রায় ১৫টি পয়েন্টে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। রংপুর ব্যুরোপ্রধান বাদশা ওসমানি, কুড়িগ্রামের আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ, লালমনিরহাটের হাসান উল আজিজ, কুমিল্লার এম হাসান ও শাহ আলম শফি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মফিজুর রহমান লিমন এই অনুসন্ধানে অংশ নেন। তারা দুজন সংসদ সদস্য, বিজিবি ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, আইনজীবী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্তত ১০ জন সাবেক মাদক কারবারির সঙ্গে কথা বলেছেন। বিভিন্ন মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কারবারিরা আটক হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচার: হাতবদল হলেও কমেনি কারবার

আপডেট সময় : ০৯:৪০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গ্রামীণ সড়কের গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে ‘মাদককে না বলুন—এমপি বাবুল’ লেখা সতর্কবার্তা চোখে পড়ে। তবে এই প্রচারণার ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে গত ১৪ এপ্রিল। ওইদিন লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের ভাতিজা ইলিয়াছ হোসেন ওরফে লিটন র‍্যাবের হাতে আটক হন। তার বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ভারত থেকে আসা কোডিনযুক্ত নিষিদ্ধ সিরাপ ‘এসকাফ’-এর একটি বড় চালান উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে এমপি বাবুল ১৯ আগস্ট টেলিফোনে বলেন, ‘প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করে আমার ভাতিজাকে মাদকে ফাঁসিয়েছিল। পরে র‌্যাব বিষয়টি জানতে পেরে আর বাড়াবাড়ি করেনি। একটি বিশেষ মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আপনারা চাইলে সরেজমিন বিষয়টি যাচাই করে দেখতে পারেন।’

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা—এই চার জেলা সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিন্দুমাত্র কমেনি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কেবল কারবার নিয়ন্ত্রণের হাতবদল হয়েছে। আগে যারা আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ব্যবসা চালাতেন, তাদের অনেকে এখন নতুন ক্ষমতাবলয়ের প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে একই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

চোরাচালানিরা এখন নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে উল্টো পুলিশের ওপর নজরদারি, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার এবং নারী ও শিশুদের বাহক হিসেবে কাজে লাগিয়ে মাদক ও অস্ত্র সীমান্ত পার করা হচ্ছে। এছাড়া হুন্ডি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে চলছে আর্থিক লেনদেন।

আমার দেশের প্রতিনিধিরা ১২ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সীমান্তের প্রায় ১৫টি পয়েন্টে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। রংপুর ব্যুরোপ্রধান বাদশা ওসমানি, কুড়িগ্রামের আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ, লালমনিরহাটের হাসান উল আজিজ, কুমিল্লার এম হাসান ও শাহ আলম শফি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মফিজুর রহমান লিমন এই অনুসন্ধানে অংশ নেন। তারা দুজন সংসদ সদস্য, বিজিবি ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, আইনজীবী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্তত ১০ জন সাবেক মাদক কারবারির সঙ্গে কথা বলেছেন। বিভিন্ন মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কারবারিরা আটক হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh