দুনিয়া কাঁপানো গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে পুরোপুরি শান্তি ফিরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সাধারণ মানুষের। তবে জনমনে সেই স্বস্তি এখনো পুরোপুরি আসেনি। বিশেষ করে, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং এর পরবর্তী নানা ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অস্বস্তি ও নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস করে বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তবে এই পরিস্থিতি সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনিক মহল কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান, কেউ অস্থিরতা সৃষ্টি বা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে। তিনি বলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনতে চায়, কারণ তিনি বাংলাদেশে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলায় তার বিচার সম্পন্ন হয়ে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে গত ১০ জুলাই এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৫ আগস্টও তিনি একই ঘোষণা দেন এবং নির্বাসনে থাকা দলীয় নেতাদেরও তার সঙ্গে দেশে ফেরার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, সংসদের বিরোধী দল ক্রমাগত রাজপথ সরগরম রাখছে এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও সরকারের বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে। শেখ হাসিনার ঘোষণার পর ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও স্লোগান দিয়েছে। দেশের বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর এবং তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নানা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলছে। পাশাপাশি বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু পেশাজীবী ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপতথ্য ছড়াচ্ছেন এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের জনপ্রিয়তা কমিয়ে এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি করে শেখ হাসিনার ফেরার পথ সুগম করার একটি দেশি-বিদেশি পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টিও সরকারবিরোধীরা সামনে আনছেন, যা সরকারের ভাবমূর্তিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রচারণার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি যুক্ত হচ্ছে, যারা বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। অনেকের ধারণা, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন পুরোপুরি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না, যার ফলে সরকারের কাজকর্মে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না।
তবে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, সরকার পরিবর্তন হয় মূলত নির্বাচনের মাধ্যমে। পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন হবে এবং মানুষের মানসিক প্রস্তুতি তেমনই থাকা উচিত। তিনি বলেন, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম হতেই পারে। তা যৌক্তিক হলে জনগণ গ্রহণ করবে, আর অযৌক্তিক হলে প্রত্যাখ্যান করবে। বিষয়গুলো মূলত সরকারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে, এগুলোকে ষড়যন্ত্র মনে করার কারণ নেই।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে তৃতীয় পক্ষ আসতে পারে—এমন জুজুর ভয় দেখিয়ে সরকার তার ব্যর্থতা ঢাকতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, কথিত তৃতীয় পক্ষ যাদের বোঝানো হচ্ছে, তারাই বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ যদি বিএনপি তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে না। ১৪শ নিরস্ত্র মানুষের হত্যাকারী এবং হাজার হাজার মানুষকে আহত ও পঙ্গুকারীরা রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হবে। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আর রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, বিরোধী দল জনগণের দাবি নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছে, এতে অস্থিরতার কিছু নেই। সরকার জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুসারে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি। তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট, দাম বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকার পরামর্শ মানছে না। তারা সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিলেও সরকার বাঁকা পথে হেঁটে জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে এবং ফ্যাসিস্টের মতো আচরণ করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার বার্তা দিয়ে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইলেও তা সম্ভব হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোসহ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক ঐক্য রয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে সরকারের সমালোচনা করলেও ৫ আগস্টের পর সরকারের স্পষ্ট পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করেন তারা। তবে ভারত ইস্যুতে সরকারের কোনো নমনীয়তা দেখলে তারা এর তীব্র বিরোধিতা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজে এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান…
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে ‘আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত হয়েছেন,…
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের কাজের পরিধি বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় এবার কানাডার মাটিতে বাংলাদেশি সিনেমায় জুটি বাঁধছেন চিত্রনায়ক…
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রথম ধাপের প্রক্রিয়া শুরু হতে…
রোমানিয়ান পপ তারকা ওটিলিয়া আবারও ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন। আগামী ২৭ নভেম্বর আয়োজিত এই কনসার্টের…
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক বইমেলা এবার পা রাখছে সুবর্ণজয়ন্তীতে (৫০ বছর)। এই আয়োজনকে আরও জাঁকজমকপূর্ণ করতে…
This website uses cookies.