সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার পর ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এতে যুক্ত হতে পারে। টেনেসিতে একটি জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক হামলার খবর তাঁরা মাত্রই পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তিন ও চার নম্বর টার্মিনাল ভবনসমৃদ্ধ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সপ্তাহের শুরুর দিকে আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় আলজেরিয়া ও মরক্কোর দুই নারী এবং কিং খালিদ বিমানবন্দরে সুদানের এক ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া বৃহস্পতিবারের আরেকটি হামলায় পাইলটসহ সৌদি আরবের তিন নাগরিক প্রাণ হারান। গত এক সপ্তাহের হামলায় নিহতদের মধ্যে আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, মিসর, জর্ডান, মরক্কো, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, সুদান ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও রয়েছেন।
ধারাবাহিক এই হামলার কারণে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১১টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটিতে ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও নাগরিকদের বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে ফ্লাইট বাতিল ও আকাশসীমা বন্ধের বিষয়ে যাত্রীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার আগের সতর্কবার্তা আবারও দিয়েছেন। তিনি তেল স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন এবং সেখানে কর্মরতদের জীবন বিপন্ন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। এদিকে, ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ১ অক্টোবর পরিচালিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক জরিপে ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হয়নি।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে এই সংঘাতের পেছনে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকা হুমকি রয়েছে। গত মাসে হুতিরা মোখা ও পেরিম দ্বীপ দখল করে নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ওয়াশিংটন আগেই জানিয়েছিল, ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়িত হওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য হোয়াইট হাউসকে টাইম সাময়িকীর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অননুমোদিত গ্রে মার্কেটের ফোনের প্রভাবে দেশের মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজারের ৪০-৫০ শতাংশ হাতছাড়া হচ্ছে, যার ফলে…
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রোববার দুপুরে এই…
শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে সৌদি আরবের বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার ৪৩১ জন…
সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধের সময়সীমা ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোয় বিমান বাংলাদেশ…
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের ও মানুষের স্বার্থে…
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে।…
This website uses cookies.