অব্যাহতভাবে বাড়ছে অননুমোদিত গ্রে মার্কেটের স্মার্টফোনের চাহিদা, যা দেশের বৈধ হ্যান্ডসেট আমদানিকারক ও স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য বড় ধরনের অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য এবং সাম্প্রতিক শিল্প সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট হ্যান্ডসেট বাজারের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এখন গ্রে মার্কেটের দখলে। এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ডিজিটাল প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। দেশের হ্যান্ডসেট বাজারের আকার প্রায় ১৭০ কোটি ডলার, যার মধ্যে ২০২৫ সালেই গ্রে মার্কেটের আকার ৭০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেলেও বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনক। মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)-এর মতে, অবৈধ হ্যান্ডসেটের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। আবার ২০২৬ সালের জানুয়ারির অন্য এক হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যেও অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানিতে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
বাজারে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর অননুমোদিত ফোনের উপস্থিতি ব্যাপক। বাংলাদেশে প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার আইফোন সক্রিয় থাকলেও এর মধ্যে ১৯ লাখ ৫০ হাজারই অবৈধ পথে এসেছে। স্যামসাং-এর ক্ষেত্রেও একই চিত্র; ২ কোটি ৩১ লাখ সক্রিয় ফোনের মধ্যে ১ কোটি ৪৯ লাখই অননুমোদিত। বৈধ ফোনের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রে ফোনের দাম ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম হয়, যা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। অ্যাপলের নিজস্ব অফিসিয়াল খুচরা নেটওয়ার্ক না থাকাও অনানুষ্ঠানিক বাজারকে শক্তিশালী করেছে।
এই গ্রে মার্কেটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে স্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদন শিল্পে। ২০২২ সালে গ্রে ফোনের বাজার ২০ শতাংশের বেশি ছিল বলে শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্যে পাওয়া যায়। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশে হ্যান্ডসেট উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্মার্টফোন উৎপাদন ৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ফিচার ফোন উৎপাদন ৯ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ বলেন, গ্রে মার্কেট দেশীয় শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরও অবৈধ ফোনের কারণে বিনিয়োগ ও উৎপাদন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গ্রে ফোনের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো ডিজিটাল অপরাধ। বিটিআরসি ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ই-কেওয়াইসি জালিয়াতির ৮৫ শতাংশই ঘটেছে অবৈধ বা পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে। এছাড়া একই আইএমইআই নম্বর দিয়ে বিপুল সংখ্যক ফোন চালানো এবং ক্লোন আইএমইআই শনাক্ত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। ২০২৪ সালে তা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে ওঠে এবং ২০২৫-২৬ সময়ে বিভিন্ন শিল্প হিসাব অনুযায়ী ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ২০২৪ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ডিজিটাল জালিয়াতির ৭৩ শতাংশই সংঘটিত হয়েছে অনিবন্ধিত ডিভাইসের মাধ্যমে।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিটিআরসি আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই ধাপে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ ও আইএমইআই শনাক্ত করা সহজ হবে। এর আগে অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিরুদ্ধে অভিযান ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে কার্যত বন্ধ ছিল, তবে ২০২৬ সালের মে মাসে বিটিআরসি যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু এনইআইআর চালুই যথেষ্ট নয়, বরং কর কাঠামো যৌক্তিক করা এবং অবৈধ আমদানি বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয়…
খাগড়াছড়িতে নারী ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে…
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক নজরদারিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পায়রা নদীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে…
রাজধানীর বর্তমান সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাবেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠে নতুন কমপ্লেক্স…
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার না পেয়ে মেসার্স একতা এন্টারপ্রাইজের গোডাউনে হামলা চালিয়ে সার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছেন একদল…
গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের বাজারে আইফোন ১৮ সিরিজ নিয়ে এসেছে। ক্রেতাদের জন্য থাকছে দুই…
This website uses cookies.