ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পেনে বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন লিওনেল মেসি ইনানীর রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: প্রিয়জনকে হারিয়ে নারীর আহাজারি শিক্ষকতা ও সুরের মেলবন্ধনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জুয়েল তাড়াশে সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, এলাকাবাসীর উদ্বেগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তি বাড়াতে চায় এনসিপি মিরপুরের ফুটপাতে স্বস্তি, মোহাম্মদপুর-আজিমপুরে কবে মিলবে মুক্তি নয় মাসে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে: প্রেস সচিব কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৫ পর্যটক পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম এডেন বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বিমান

পলাশীর ২৬৯ বছর: বিশ্বাসঘাতকতার শিক্ষা ও বর্তমানের দায়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধের ২৬৯তম বার্ষিকী নীরবে পার হয়ে গেল। এই দিনটি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা আমার চোখে পড়েনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ, পলাশীর সেই পরাজয় আজও বাংলাদেশের অধিবাসীদের জন্য গভীর শিক্ষা বহন করে চলেছে। অন্য অনেক জাতি নিজেদের ইতিহাসের এমন বাঁক সহজে ভোলে না। চীনের কথাই ধরা যাক; ১৮৬০ সালে দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনী বেইজিংয়ের অদূরে চীনের ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ লুট করে পুড়িয়ে দিয়েছিল। চীন আজও সেই ধ্বংসস্তূপ যেমন ছিল তেমনই রেখে দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জাতীয় অপমান ও বিভাজনের ভয়াবহতা কখনো ভুলে না যায়। তারা বুঝতে পারে, দুর্বলতা আর বিভাজনের শেষ পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে।

ইতিহাসের এক কষ্টের মিল আছে—চীনের যে প্রাসাদ ব্রিটিশদের হাতে পুড়েছিল, সেই ব্রিটিশ শক্তির উত্থান শুরু হয়েছিল আমাদের পলাশীর যুদ্ধ থেকে। মাত্র এক শ বছরের মধ্যে তারা বাংলা থেকে বেইজিং পর্যন্ত নিজেদের প্রভাব ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের কাছে পলাশী কেবল একটি সাধারণ তারিখ হয়ে গেছে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে দুটি সেনাবাহিনী মুখোমুখি হয়েছিল। একদিকে ছিল এক ঐতিহাসিক উত্থানের সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ শক্তি, অন্যদিকে ছিল অভ্যন্তরীণ জীর্ণতায় ধুঁকতে থাকা বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাষ্ট্রকাঠামো। সিরাজ ১৭৫৬ সালে মাত্র তেইশ-চব্বিশ বছর বয়সে ক্ষমতায় বসেছিলেন, কিন্তু তাঁর উত্তরাধিকারী হওয়া ব্যবস্থাটি ছিল ভেতর থেকে জীর্ণ। বিপরীতে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট তত দিনে শিখে ফেলেছিল কীভাবে কার্যকরভাবে শাসন করতে হয়, ধর্মীয় বিরোধ সামাল দিতে হয় এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে যুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়। একজন ব্যক্তির ভঙ্গুর কর্তৃত্ব আর একটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রাষ্ট্রশক্তির মধ্যে এই মৌলিক পার্থক্যই পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল অনেকখানি ঠিক করে দিয়েছিল।

এই উত্থান আর পতনের ধারা যুদ্ধের আগে-পরের ঘটনাপ্রবাহেও স্পষ্ট। ১৭৫৬ সালে সিরাজ কলকাতা দখল করে ফোর্ট উইলিয়ামের পতন ঘটিয়েছিলেন। অথচ সেই আঘাত সামলে ইংরেজরা অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই ফিরে এল, পুনর্দখল করল কলকাতা এবং তাদের অগ্রযাত্রা পৌঁছে গেল বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদের দোরগোড়ায়। বিপরীতে, পলাশীর পরে যখন নতুন নবাব মীর কাসিম আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মুঙ্গেরে রাজধানী সরিয়ে সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করলেন এবং ইংরেজদের চ্যালেঞ্জ জানালেন, তখন ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে তিনি আরও চূড়ান্তভাবে পরাজিত হলেন। একটি ব্যবস্থা প্রতিটি আঘাতের পর শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছিল, আর অন্যটি প্রতিটি চেষ্টার পরও কেবল তলিয়ে যাচ্ছিল।

পলাশীর পরাজয়ের পেছনে ষড়যন্ত্রের জাল ছিল বিস্তৃত। মীর জাফর মুখে আনুগত্যের মিথ্যা আশ্বাস দিলেও তাঁর মন বাঁধা পড়েছিল শত্রুশিবিরে। সিরাজ নিজের চারপাশে বিছানো ষড়যন্ত্রের জাল সম্পর্কে সচেতন ছিলেন বলেই যুদ্ধের উত্তপ্ত মুহূর্তে নিজের মুকুট মাটিতে ছুড়ে ফেলে সেনাপতিদের ওয়াদা চেয়েছিলেন। কিন্তু মীর জাফরের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল আস্ত একটি চক্র। জগৎ শেঠদের মতো প্রভাবশালী মহাজন পরিবার, উমিচাঁদের মতো বণিক, দরবারের অসন্তুষ্ট অভিজাত এবং সিরাজের আপন খালা ঘসেটি বেগম—সবাই এই ষড়যন্ত্রে শামিল ছিলেন। রবার্ট ক্লাইভ বাংলাকে যতটা না যুদ্ধে জয় করেছিলেন, তার চেয়ে বেশি কিনে নিয়েছিলেন সেই মানুষগুলোর কাছ থেকে, যাঁদের বাংলাকে রক্ষা করার কথা ছিল।

যুদ্ধের মাঠেও ছিল চরম কৌশলগত ব্যর্থতা। কামান বিনিময়ের পর টানা বৃষ্টি নামলে বাংলার সেনাবাহিনী তাদের বারুদের ভান্ডার ঢেকে রাখার প্রয়োজন বোধ করেনি, ফলে তারা কামানের গোলা ছুড়তে ব্যর্থ হয়। অথচ কোম্পানির বাহিনী তাদের কামান আর বারুদ ঢেকে রেখেছিল। যুদ্ধের মাঠে গ্রামবাসীরাও নীরব দর্শক হয়ে সীমানার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, কারণ কোম্পানির শাসন যে কী ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনবে, তা তাদের কাছে স্পষ্ট ছিল না। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে, রাষ্ট্র কি সত্যিই তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে যুক্ত করতে পারছে? কারণ, যে জনগণ রাষ্ট্রকে নিজের বলে অনুভব করে না, সংকটের মুহূর্তে তারা আবারও সেই নীরব দর্শক হয়েই দাঁড়িয়ে থাকে।

তবে এই বিশ্বাসঘাতকতার পাশেই ছিল আনুগত্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নবাবের কামান-বাহিনীর প্রধান সেনাপতি মীর মদন শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত নবাবের পক্ষেই লড়ে গেছেন, প্রাণ দিয়েছেন কামানের গোলার আঘাতে। তাঁর পাশে ছিলেন মোহনলাল, যিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। পরাজয় ও মৃত্যুর পরেও সিরাজের স্ত্রী লুৎফুন্নিসা বেগম আজীবন স্বামীর স্মৃতির প্রতি অবিচল ছিলেন। ইতিহাস বিজয়ীরা লেখে, তাই কোম্পানির ইতিহাসবিদরা সিরাজকে অনভিজ্ঞ নবাব হিসেবে আঁকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সিরাজের প্রকৃত পরাজয় পলাশীর মাঠে নয়, ঘটেছিল তাঁর নিজের দরবারেই। ২৬৯ বছর আগে বাংলার নবাব এবং সেনাবাহিনী যেদিন পলাশীর আম্রকাননে পা রেখেছিল, সেই গাছের সারির ভেতরে ঢুকে পড়ে আমরা যেন আর পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারিনি। কবে আমরা পলাশীর ছায়া থেকে বের হতে পারব, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

পলাশীর ২৬৯ বছর: বিশ্বাসঘাতকতার শিক্ষা ও বর্তমানের দায়

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

গত ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধের ২৬৯তম বার্ষিকী নীরবে পার হয়ে গেল। এই দিনটি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা আমার চোখে পড়েনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ, পলাশীর সেই পরাজয় আজও বাংলাদেশের অধিবাসীদের জন্য গভীর শিক্ষা বহন করে চলেছে। অন্য অনেক জাতি নিজেদের ইতিহাসের এমন বাঁক সহজে ভোলে না। চীনের কথাই ধরা যাক; ১৮৬০ সালে দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনী বেইজিংয়ের অদূরে চীনের ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ লুট করে পুড়িয়ে দিয়েছিল। চীন আজও সেই ধ্বংসস্তূপ যেমন ছিল তেমনই রেখে দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জাতীয় অপমান ও বিভাজনের ভয়াবহতা কখনো ভুলে না যায়। তারা বুঝতে পারে, দুর্বলতা আর বিভাজনের শেষ পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে।

ইতিহাসের এক কষ্টের মিল আছে—চীনের যে প্রাসাদ ব্রিটিশদের হাতে পুড়েছিল, সেই ব্রিটিশ শক্তির উত্থান শুরু হয়েছিল আমাদের পলাশীর যুদ্ধ থেকে। মাত্র এক শ বছরের মধ্যে তারা বাংলা থেকে বেইজিং পর্যন্ত নিজেদের প্রভাব ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের কাছে পলাশী কেবল একটি সাধারণ তারিখ হয়ে গেছে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে দুটি সেনাবাহিনী মুখোমুখি হয়েছিল। একদিকে ছিল এক ঐতিহাসিক উত্থানের সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ শক্তি, অন্যদিকে ছিল অভ্যন্তরীণ জীর্ণতায় ধুঁকতে থাকা বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাষ্ট্রকাঠামো। সিরাজ ১৭৫৬ সালে মাত্র তেইশ-চব্বিশ বছর বয়সে ক্ষমতায় বসেছিলেন, কিন্তু তাঁর উত্তরাধিকারী হওয়া ব্যবস্থাটি ছিল ভেতর থেকে জীর্ণ। বিপরীতে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট তত দিনে শিখে ফেলেছিল কীভাবে কার্যকরভাবে শাসন করতে হয়, ধর্মীয় বিরোধ সামাল দিতে হয় এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে যুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়। একজন ব্যক্তির ভঙ্গুর কর্তৃত্ব আর একটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রাষ্ট্রশক্তির মধ্যে এই মৌলিক পার্থক্যই পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল অনেকখানি ঠিক করে দিয়েছিল।

এই উত্থান আর পতনের ধারা যুদ্ধের আগে-পরের ঘটনাপ্রবাহেও স্পষ্ট। ১৭৫৬ সালে সিরাজ কলকাতা দখল করে ফোর্ট উইলিয়ামের পতন ঘটিয়েছিলেন। অথচ সেই আঘাত সামলে ইংরেজরা অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই ফিরে এল, পুনর্দখল করল কলকাতা এবং তাদের অগ্রযাত্রা পৌঁছে গেল বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদের দোরগোড়ায়। বিপরীতে, পলাশীর পরে যখন নতুন নবাব মীর কাসিম আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মুঙ্গেরে রাজধানী সরিয়ে সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করলেন এবং ইংরেজদের চ্যালেঞ্জ জানালেন, তখন ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে তিনি আরও চূড়ান্তভাবে পরাজিত হলেন। একটি ব্যবস্থা প্রতিটি আঘাতের পর শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছিল, আর অন্যটি প্রতিটি চেষ্টার পরও কেবল তলিয়ে যাচ্ছিল।

পলাশীর পরাজয়ের পেছনে ষড়যন্ত্রের জাল ছিল বিস্তৃত। মীর জাফর মুখে আনুগত্যের মিথ্যা আশ্বাস দিলেও তাঁর মন বাঁধা পড়েছিল শত্রুশিবিরে। সিরাজ নিজের চারপাশে বিছানো ষড়যন্ত্রের জাল সম্পর্কে সচেতন ছিলেন বলেই যুদ্ধের উত্তপ্ত মুহূর্তে নিজের মুকুট মাটিতে ছুড়ে ফেলে সেনাপতিদের ওয়াদা চেয়েছিলেন। কিন্তু মীর জাফরের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল আস্ত একটি চক্র। জগৎ শেঠদের মতো প্রভাবশালী মহাজন পরিবার, উমিচাঁদের মতো বণিক, দরবারের অসন্তুষ্ট অভিজাত এবং সিরাজের আপন খালা ঘসেটি বেগম—সবাই এই ষড়যন্ত্রে শামিল ছিলেন। রবার্ট ক্লাইভ বাংলাকে যতটা না যুদ্ধে জয় করেছিলেন, তার চেয়ে বেশি কিনে নিয়েছিলেন সেই মানুষগুলোর কাছ থেকে, যাঁদের বাংলাকে রক্ষা করার কথা ছিল।

যুদ্ধের মাঠেও ছিল চরম কৌশলগত ব্যর্থতা। কামান বিনিময়ের পর টানা বৃষ্টি নামলে বাংলার সেনাবাহিনী তাদের বারুদের ভান্ডার ঢেকে রাখার প্রয়োজন বোধ করেনি, ফলে তারা কামানের গোলা ছুড়তে ব্যর্থ হয়। অথচ কোম্পানির বাহিনী তাদের কামান আর বারুদ ঢেকে রেখেছিল। যুদ্ধের মাঠে গ্রামবাসীরাও নীরব দর্শক হয়ে সীমানার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, কারণ কোম্পানির শাসন যে কী ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনবে, তা তাদের কাছে স্পষ্ট ছিল না। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে, রাষ্ট্র কি সত্যিই তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে যুক্ত করতে পারছে? কারণ, যে জনগণ রাষ্ট্রকে নিজের বলে অনুভব করে না, সংকটের মুহূর্তে তারা আবারও সেই নীরব দর্শক হয়েই দাঁড়িয়ে থাকে।

তবে এই বিশ্বাসঘাতকতার পাশেই ছিল আনুগত্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নবাবের কামান-বাহিনীর প্রধান সেনাপতি মীর মদন শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত নবাবের পক্ষেই লড়ে গেছেন, প্রাণ দিয়েছেন কামানের গোলার আঘাতে। তাঁর পাশে ছিলেন মোহনলাল, যিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। পরাজয় ও মৃত্যুর পরেও সিরাজের স্ত্রী লুৎফুন্নিসা বেগম আজীবন স্বামীর স্মৃতির প্রতি অবিচল ছিলেন। ইতিহাস বিজয়ীরা লেখে, তাই কোম্পানির ইতিহাসবিদরা সিরাজকে অনভিজ্ঞ নবাব হিসেবে আঁকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সিরাজের প্রকৃত পরাজয় পলাশীর মাঠে নয়, ঘটেছিল তাঁর নিজের দরবারেই। ২৬৯ বছর আগে বাংলার নবাব এবং সেনাবাহিনী যেদিন পলাশীর আম্রকাননে পা রেখেছিল, সেই গাছের সারির ভেতরে ঢুকে পড়ে আমরা যেন আর পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারিনি। কবে আমরা পলাশীর ছায়া থেকে বের হতে পারব, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo