আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে এই লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছেন।
বুধবার স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বৈঠক শুরু হয় বেলা সাড়ে তিনটায়। বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদকে সামনে রেখে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কৌশলপত্রের আলোকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার ও অ্যাগ্রিভোলটেইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন— সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও স্ট্রাকচার আমদানির ওপর শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ঘোষিত প্রজ্ঞাপন ও নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিজেদের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও গাইডলাইন তৈরি করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘পিপিপি পদ্ধতিতে সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন ভূমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়ন নির্দেশিকা, ২০২৬’, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নীতিমালা, ২০২৫’, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫’, ‘নেট মিটারিং গাইডলাইন, ২০২৫’ এবং ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি, ২০২৫’। এছাড়া বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল, অনশোর উইন্ড গাইডলাইন এবং কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত গাইডলাইনও প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
ওমান উপকূলে এমভি কেপ দাও নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে। হামলায়…
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন বন্ধু বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের…
নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য ও…
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…
This website uses cookies.