বাংলাদেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯০২ জন। দেশের ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১১৯ জন শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬৯ জন। এ পর্যন্ত দেশে উপসর্গ ও নিশ্চিত মিলে মোট হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান জানান, অতীতে দেশে কখনোই হামে এত সংক্রমণ বা মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এর প্রধান শিকার হচ্ছে শিশুরা।
জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ বারী আজ প্রথম আলোকে বলেন, এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে হামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে বাংলাদেশে। তিনি জানান, ২০২৫ সালে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২২ সালে ৩১১ জন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হামের সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে, যা নজিরবিহীন। গত কয়েক বছরে হামের টিকাদানে ঘাটতি এবং ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা দেওয়ার কাজে চরম অবহেলাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছরের শুরু থেকে প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও যথাযথ নজর দেওয়া হয়নি, এমনকি মার্চ থেকে পরিস্থিতি বাড়তে শুরু করলেও কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত গণটিকাদান কর্মসূচি চললেও প্রায় ৪০ লাখ শিশু তা থেকে বাদ পড়ে যায়। পরবর্তীতে এপ্রিলে বর্তমান সরকার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করলেও, হিসাবের গরমিলের কারণে ৪৬ লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। ইউনিসেফের বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইউনিসেফ বারবার উদ্বেগ জানিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত টিকা সরবরাহে বিলম্ব ও বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২০-২১ সালের পর থেকে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা এবং নিয়মিত টিকাদানের হার ২০২৫ সালে ৫৯ শতাংশে নেমে আসা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সেবার কভারেজ ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ২০২০–২১ সালের পর বিশেষ ক্যাম্পেইন আর হয়নি। অতীতে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ সালের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশ বা তার বেশি কভারেজ অর্জিত হয়েছিল। বর্তমানে ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
প্রায় ৮ বছর ধরে মৃত্যু তো দূরে থাক, হামে সংক্রমণের সংখ্যা ৪০০–র বেশি হয়নি।
আর এ বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে হাম নির্মূলের সনদ পাওয়া যেত।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন…
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন…
ডেঙ্গু ও হামে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম…
নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘের এক বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক…
নাটোর সদর উপজেলার জংলি ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ও ছাত্রশিবিরের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি নূর হোসেন একটি…
রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন…
This website uses cookies.